অনুগল্প ২: নিছক বিরিয়ানির গল্প

“শতরঞ্চ কি খিলাড়ী। তাঁর হাত ধরেই কলকাতায় এসেছিলো বিরিয়ানি। আর তার রূপান্তর হয়ে সৃষ্টি হলো কলকাতার বিরিয়ানি। সিরাজের বিরিয়ানি। আমিনিয়ার বিরিয়ানি। আপনার, আমার প্রানের আরাম, মনের শান্তি। কি বুঝলেন?”

“তা যা বলেছেন। কলকাতার বিরিয়ানি একটা অপার্থিব জিনিস মশায়।“

“ঠিক মতো বানালে তবে। তাওয়াতে শুকনো করে ভাজা গোটা মশলা। ঘি দিয়ে ভাজা পিঁয়াজ। ডেকচিতে স্তরে স্তরে মাংস আর বিরিয়ানির চাল। তার সঙ্গে মসলিনে মুড়িয়ে সঠিক পরিমানে মশলা। একগাদা দিয়ে দিলেই সর্বনাশ। সঙ্গে কেওড়ার জল আর এক ফোঁটা মিষ্টি আতর। আহা, আহা – যেন সেতারের সুর !“

“সিরাজের মতো কিন্ত কারুর নয়, বলুন!”

“না না, সেটা অন্যায় কথা। আমিনিয়া ? যেখানে একসময় মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের ভিড় থাকতো?

“ওদের আমিনিয়া স্পেশালটা দারুণ !“

“তেমনি উমদা চাঁপ আর রেজালা। যদিও চাঁপটা রয়েল বেশী ভালো করে।“

“রয়েলের বিরিয়ানিও তো খুব ভালো।“

“তা ভালো, তবে আমি সিরাজ আর আমিনিয়ার স্ট্যান্ডার্ডে ফেলবো না মশাই। তার বদলে বরং রেহমানিয়া বেশী ভালো ছিলো।“

“আর অ্যাম্বার এর নার্গিসি বিরিয়ানি ?”

“অন্য ঘরানার, সব হতে আলাদা,  মধুর। এমনকি ওদের সিস্টার কনসার্ন সাগর-এর থেকেও আলাদা। সুনীল-সমরেশ বসু-শংকর-বিমল মিত্রদের মাঝখানে যেন একপীস কমলকুমার মজুমদার। “

“এর সঙ্গে শেষ পাতের ফির্নি ?”

“সেজন্যে তো আবার আমিনিয়াতে ফিরে যেতে হবে ভাই। ফির্নির বাটি উল্টো করে দেখিয়ে দেবে কতো ভালো জমেছে। তবে না! “

এই সময় পর্দা সরিয়ে সুমিতা ঘরে ঢুকে বললো “লাঞ্চ টাইম। খাবার দিচ্ছি।“

“কি আছে ম্যাডাম ?”

“পেঁপের ঝোল আর ভাত।“

সুমিতা পেছন ফিরতেই অবিনাশবাবু বললেন “ওই মাগীর মাথায় ঢেলে দিতে হয় ওই পেঁপের ঝোল!”

“আহা, বড্ডো রেগে যাচ্ছেন।“

“রাগ হবে না?”

“ওর কি দোষ বলুন? গলব্লাডার অপারেশান করবার পাঁচদিনের মাথায় কি বিরিয়ানি দেবে নাকি? তাছাড়া বিরিয়ানি কোন হাসপাতালেরই পথ্য হিসেবে দেওয়া হয় না।“

————————————————————————————————————————————

প্রথম প্রকাশ ঃ ফেবু , ২৪-এপ্রিল-২০১৭