নির্জন দ্বীপের রহস্য

আকাশে বিষণ্ণ মেঘ। তার সঙ্গে অবাধ্য হাওয়াটার আশকারা পেয়ে সমুদ্রটা একেবারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । থেকে থেকে আচমকা আছড়ে পড়ছে পাথরের বুকে। তার এই উচ্ছ্বাসের ছিটে এসে লাগছে সমুদ্রতীরের লোকজনের গায়ে, সিক্ত করে দিচ্ছে তাদেরকে। এই যেমন আমাকে করে দিল এইমাত্র। আর সেই সঙ্গে আমার সিগারেটটাকেও – যেটা দিনের প্রথম সিগারেট – সেটাও একেবারে চুবড়ি-ভেজা হয়ে গেল। বিরক্ত হয়ে সেটা ফেলে দিতে যাচ্ছি, এমন সময় পেছন থেকে আমার বর্তমান বাসস্থানের মালিক ‘তে তেইয়া’র গলা ভেসে এলো–“না না টমাস – যেখানে সেখানে নয় প্লিজ।”

একটু লজ্জিত হয়ে সিগারেটটা তুলে একটা কাগজের টিস্যুতে মুড়িয়ে জ্যাকেটের পকেটে গুঁজে রাখলাম। পরে ট্রাশক্যান দেখলে ফেলে দেবো অখন। মনে মনে নিজেকে ভৎসনা করলাম – নিজের দেশে তো রাস্তায় সিগারেটের টুকরো ছুঁড়তে যাই না।

তে তেইরার অন্য নাম রবার্ট সলোমন। সে পায়ে পায়ে এসে আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। সরু চোখ করে সমুদ্রের দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর বললো “আজ তো সমুদ্র শান্ত হয়ে যাচ্ছে দেখছি।”

“বল কী?” বললাম আমি, কিছুটা অবিশ্বাসী গলায়।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB77/LEKHA/gAtanu77_nirjon.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৭, জানুয়ারি , ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

ইন্টারভিউয়ের পরে

শার্ট আর তার সঙ্গে মানানসই টাই পছন্দ করতে আজকে অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই সময় লাগলো অনিরুদ্ধ মিত্রের। শেষমেশ হেরিংবন সাদা ট্যুইডের সঙ্গে পরলেন চওড়া ঘননীল টাই আর সিংগল প্লিটের কালো ট্রাউজার। আর চকচকে কালো জুতো। লিফটে নামতে নামতে ভেবে নিলেন যে কলেজে যাবার জন্যে রাস্তাটুকু আজ একটু দ্রুত হাঁটবেন। পোশাক পরতে যে দেরিটুকু হলো, সেটা মেকআপ করতে হবে তো!

আজকের দিনটা অ্যান্ডি—মানে অনিরুদ্ধ মিত্রের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আজ টেক্সাস টেকনোলজি আসছে ওঁর কলেজে।

এই আমেরিকান কোম্পানিটি এই প্রথম যাদবপুর ইউনিভারসিটিতে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্টে এলো। নতুন কোম্পানি, কিন্তু আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে এঁরা একেবারে যাকে বলে “কাটিং এজ” কাজ করছেন। …

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB76/LEKHA/gAtanu76_interview.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৬, অক্টোবর , ২০১৯

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

দুধেল গাই

একদা স্বীয় ইস্পাত বেলন কারখানার গদিতে বসিয়া একটি প্রমাণ সাইজের লস্যির গেলাসে চুমুক দিয়া অকস্মাৎ আকাশবাবুর একটি দুধেল গাই কিনিবার সাধ হইলো।

সামনেই বসে ছিলেন তাঁর ‘খাস আদমি’ — প্রোডাকশন ম্যানেজার ভক্তিবাবু — ভক্তিনারায়ন রাই। অনেকদিন ধরে আছেন — প্রায় বছর পনেরো হয়ে গেল। আকাশবাবুর থেকে বেশ কিছুটা বড় হলেও দুজনের মধ্যে বেশ একটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে। এঁকে আকাশবাবু বেশ মন খুলে নিজের কথা বলতে পারেন। এক্ষেত্রেও আকাশবাবু তাঁর কাছেই এই নতুন প্রস্তাবটি রাখলেন।

“কেন, লস্যিটা পছন্দ হল না? মানে খাঁটি দুধ হলে বেশি ভালো হবে…।” জিগ্যেস করলেন ভক্তিবাবু।

“আহা — সে জন্যে বলছি নাকি? গরু রাখা যেকোন ব্যবসাদার পরিবারের কালচার, ভাই! গোমাতা ব্যবসার লক্ষ্মী, জানেন না?”

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB76/LEKHA/gAtanu76_dudhelgaai.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৬, অক্টোবর , ২০১৯

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

দুই বুড়োর আখ্যান

“মেয়েটা একদম গোল্লায় গেছে কিন্তু,” বললেন মানসবাবু। “আর সেটা হয়েছে সম্পূর্ণ আপনার আশকারাতে।“

“আহা – আমি আবার কি করলাম! আর মেয়েটাই বা কি দোষ করলো?“ একটু থতমত অসহায়তা মিশিয়ে বললেন প্রসূনবাবু। উনি সবসময় এটা থতমতময় অবস্থায়ই থাকেন। স্ত্রী মারা যাবার পর সেটা আরো বেড়েছে।

“সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, একবার জিজ্ঞেস করবে তো চা বা কফির কথা! ছোটটি তো নেই, যথেষ্ট বড়ো হয়েছে – একটা কাণ্ডজ্ঞান হবে না?”

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB75/LEKHA/gAtanu75_duiburo.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৫, জুন, ২০১৯

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অন্ধকারে

আততায়ী নিঃশ্বাস বন্ধ দাঁড়িয়ে আছে একটা থামের আড়ালে। একতলার এই অংশটা গাড়ির পার্কিং – তাই এখানে আলো খুব কম। চট করে কারোর চোখে পড়ার সম্ভবনা প্রায় নেই।

এখন অপেক্ষা, কখন রাতের গার্ডরা আসে।

বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। একটু বাদেই দুদিক থেকে দুজন গার্ড এসে মুখোমুখি দাঁড়ালো। কথা বললো না, শুধু একবার ঘাড় হেলিয়ে একে ওপরের পাশ দিয়ে চলে গেল। সিকিউরিটি প্রোটোকল তাই বলে।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB75/LEKHA/gAtanu75_andhakare.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৫, জুন, ২০১৯

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

ঘুষ

খেয়াল করে দেখেছেন, ঘুষ দেবার পর শিরদাঁড়াটা আর সোজা থাকে না? কেমন কোলকুঁজো করে দেয় মানুষকে? দেখেছেন?

বাড়ির পেছনের বাজারে চা খেতে গেছি। সেখানে একটা “রাজস্থানী” চায়ের দোকান আছে – খুব নাম। সবসময়ই বেশ ভিড়, মাঝেমাঝে লাইনও পড়ে যায়। দামও অন্য চায়ের দোকানের চেয়ে বেশি – ১৫ টাকা। মাটির ভাঁড়ে চা দেয় – বেশ বড়ো ডিজাইন-করা ভাঁড়। চায়ে নানান মশলা মেশানো থাকে, এলাচ তার মধ্যে অন্যতম। বাকিগুলো আলাদা করে বুঝতে পারি না। লোকটাও বলে না – হাজার হোক, ট্রেড সিক্রেট বলে কথা।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB75/LEKHA/gAtanu75_ghush.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৫, জুন, ২০১৯

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অনুগল্প ৬: ইমতিয়াজ মিঁয়ার ফ্যাশন

চার কুড়ি পার করলেও ইমতিয়াজ মিয়াঁর জিন্দেগীতে রঙের অভাব নেই। চুলেতে রং আর দাড়িতে মেহেন্দি লাগিয়ে, তিন নম্বর বউয়ের হাতের জর্দার কৌটো থেকে এক চিমটে উমদা বেনারসী জর্দা মুখে ফেলে, গোলাপীর ওপর আগাগোড়া সোনালী সুতোয় ঠাসা-কাজ করা মিহি পাঞ্জাবী পরে দোকানে এসে বসেন রোজ বিকেলবেলায়। তখন তাঁর দাড়িতে আর কানের পিছনে থাকে এক ফোঁটা করে ফিরদৌস ইত্বর, যার খুশবু একেবারে বড়োরাস্তা অব্দি পৌঁছে যায়। মল্লিকবাজার অঞ্চলের লোকেরা যাবার পথে সেলাম বাজিয়ে যায়। পুরনো খদ্দেররাও জানে যে এই সময়ই মিয়াঁসাহেব দোকানে থাকবেন, তাই তারাও বেছে বেছে এই সময়টাতেই এসে পড়েন।

..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB70/LEKHA/gAtanu70_imtiaz.shtml

প্রথম প্রকাশঃ  পরবাস-৭০, ৩১ মার্চ , ২০১৮

অনুগল্প ৪ : করাল কুম্ভীর

“গুঞ্জার অন্তরাত্মা শিহরিয়া উঠিলো। পালাইবার পথ নাই।

গগন তখন সায়াহ্নের রুধিরাক্ত রূপ ত্যাগ করিয়া ক্রমশ মসীবর্ণ হইয়া উঠিতেছে। সম্মুখের কৃষ্ণসমুদ্র করাল মৃত্যুর ন্যায়। সমুদ্রগর্ভ হইতে উঠিয়া আসিয়াছে কৃতান্তের ন্যায় ভয়ংকর এক কুম্ভীর। তাহার শ্বেতদন্তপাটের ঝলকে মৃত্যুর বিভীষিকা।

গুঞ্জা যে অতিক্ষুদ্র প্রস্তরখণ্ডের উপর কোনোরূপে নিজেকে প্রোথিত করিয়া রাখিয়াছে, তাহা নিতান্তই অস্থাবর। যেকোনো মুহূর্তে তাহা খসিয়া গিয়া গুঞ্জাকে গর্জনময় সমুদ্রের গর্ভে নিক্ষেপ করিবে। ভয়াল ক্ষিপ্ত রুদ্ররূপী কুম্ভীর যেথা বিদ্যমান।”

..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB69/LEKHA/gAtanu69_koral.shtml

প্রথম প্রকাশ ঃ পরবাস ৬৯, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাহ্ণে

প্রমোদবাবু জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। বাইরে গাছের পাতাগুলো আস্তে আস্তে ঝরছে হাল্কা হাওয়ায়। কড়া রোদ, তাই কেউ বড়ো একটা নেই রাস্তায়। নিঃসঙ্গ রাস্তা।

“কি, মুখার্জি সাহেব, আসবো?” অরিন্দমবাবুর বাজখাঁই গলা ভেসে এলো। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন প্রমোদবাবু। মুখে আর চোখের কোলে একটা হাসি খেলে গেলো ওনার। চওড়া একটা হাসি মুখে মেখে নিয়ে সাড়া দিলেন একটু জোরেই—

“আসুন, আসুন অরিন্দমবাবু। আপনার কথাই ভাবছিলাম।”

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB65/LEKHA/gAtanu65.shtml

প্রথম প্রকাশ ঃ পরবাস-৬৫, ডিসেম্বর ২০১৬