আমার কথা

“আমার জন্ম হয়েছিলো সেকেলে কলকাতায়” – এটা শুধু রবীন্দ্রনাথ নয়, বেশীর ভাগ মানুষেরই ছেলেবেলার ক্ষেত্রে সত্যি। আর সেই ছেলেবেলাকে যদি আজকের ইন্টারনেট-মোবাইল-টেকস্যাভি দুনিয়ার পাশে দাঁড় করাই, তাকে নিতান্তই সাবেকি দেখাবে।

বেড়ে ওঠার দিনগুলো কেটেছে দক্ষিণ কলকাতায় – ভবানীপুরে। ছেলেবেলার অনেকটা সময়ই মামার বাড়িতে কাটানো। সেখানেই সাহিত্যের প্রতি রুচিটা তৈরি হয়। অজস্র বই পড়তাম – বাংলা ইংরিজি মিলিয়ে। রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনবার কানটাও তৈরি হয় তখনই। এর সঙ্গে ফটোগ্রাফি। মামা-মাসীদের এইসব ব্যাপারে এন্তার আশকারা ছিলো। সঙ্গে পাঠভবন স্কুলের পড়াশোনা এই শিল্প-সাহিত্যের ভালোবাসাটাকে হাতপাখার হাওয়া দিয়ে ধিকি-ধিকি থেকে একেবারে দাউদাউ করে দিয়েছিলো।

যাদবপুরে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ঢুকি। লেখাপড়া অবশ্য সেখানে যত না করেছি, সিনেমা-বই-ছবি নিয়ে মাতামাতি করেছি তার চেয়ে বেশী । তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এক বছর পুণায়, তারপর আবার কলকাতায় আট বছর, সেখান থেকে বম্বেতে। আরব সাগরের লোনা জলে আট বছর, তারপর দিল্লি থুড়ি গুড়গাঁও ডবল থুড়ি গুরুগ্রাম। এখন সেখানেই।

চাকরি করি। বই পড়ি। গান শুনি। ভাবা প্র্যাকটিস করি। সিধু জ্যাঠার ভাষায় মনের জানলা খোলা রেখে দিই, যাতে আলো আর বাতাস ঢুকে মনটাকে সতেজ রাখে।

আর লিখি।