পার্বত্য-মরুর দেশে আমরা – ৭

সপ্তম পর্বঃ হিকিম-কমিক-লাংজা

পিন ভ্যালি থেকে সকাল সকাল বেরিয়ে আমরা ফিরে এলাম কাজাতে। কাজাতে ছোট্ট একটা চা-বিরতি, তারপর আমরা যাবো হিকিম, তারপর কমিক, শেষে লাংজা। লাংজাতে রাত্রিবাস – হোম-স্টে।

কাজাতে একটু চা খাবার জন্যে থামলাম “কুমফেন” নামের একটা মাঝারি গোছের হোটেলে। একদম রাস্তার ওপরেই, কাজার শাক্য মনাস্ট্রির একটা বাড়ি আগে। সেখানে ঢুকে চায়ের অর্ডার দিচ্ছি, হঠাৎ “হ্যালো স্যার” বলে “ইনক্রেডিবল স্পিতি”র সেই পূজা আচমকা কোথা থেকে এসে উপস্থিত। কিছুক্ষণ “আরে-আপনি-এখানে-তারপর-কেমন-বেড়ালেন” ইত্যাদি আমড়াগাছির পর বোঝা গেলো যে “শাক্য-এবোড” (মানে যে হোটেলে আমরা আগেরবার ছিলাম), “স্নো লায়ন” (এটা এখানকার একটা বেশ ভালো হোটেল) আর এই “কুমফেন”, তিনটে একই মালিকের। এবং তাদেরই ট্র্যাভেল বিজনেসের নাম “ইনক্রেডিবল স্পিতি”। এবং “ইনক্রেডিবল স্পিতি”র অফিস হলো এই “কুমফেন” হোটেলের রিসেপশনের পেছনের একটি এককামরার ঘর।

কুমফেন হোটেলের প্রধান আকর্ষণ এর বিশাল খাবার ঘর – যার একপ্রান্তের দেওয়ালে টাঙানো অজস্র তিব্বতী মুখোশ এবং অন্যান্য টুকিটাকি। একটা কোনায় সোফা রাখা আছে, তার পাশেই বইয়ের আলমারী – তাতে বেশ কিছু তিব্বতী সংস্কৃতি ও ধর্মের ওপর বই আছে। একটা কেনা গেল (তার থেকেই তো কিছু কিছু এখানে ঝেড়ে দিচ্ছি; নইলে কি ভাবছেন – আমি একেবারে বিদ্যাবোঝাই বাবুমশাই?) কাঁচের গেলাসে লেবু-আদা দেওয়া চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তবে বেরোবার আগে একটা মন্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে।

07 Kumpeng Hotel

কুমপেন হোটেলের দেয়ালের চমৎকার সাজসজ্জা

সকালবেলায় মাড গ্রাম থেকে বেরোবার আগে সোনু একটা রহস্যময় কথা বলেছিলো “যদি লাংজাতে গিয়ে শরীর খারাপ করে, তাহলে আমাকে বলবেন। আমরা কাজাতে নেমে আসবো।“ এই রহস্যজনক তথা ভয়জনক মন্তব্যটির অন্তর্নিহিত অর্থটা কি, মানে এখানে কবি ঠিক কি বলতে চেয়েছেন – সেটা বিস্তারিতভাবে বুঝে নেওয়া দরকার। পূজার সঙ্গে কথা বলে যা আবছা বুঝলাম, তা হলো লাংজা বেশ হাই-অলটিচ্যুড জায়গা, সেখানে নাকি অনেকেরই রাত্রে শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে। এবং আমাদের সোনুবাবু সেখানে রাতে থাকেন না, নিচে নেমে আসেন। অতএব মাঝরাত্রে শরীর খারাপ করলে গাড়ি থাকবে না – ডাকাও যাবে না কারণ ওখানে ফোন চলে না। অতএব “ভগবান কি প্যারে” হয়ে যাবার একটা হালকা সম্ভবনা আছে।

যাই হোক, দুর্গা বলে বেরিয়ে পড়লাম। পয়লা গন্তব্য – হিকিম। কাজা থেকে একটা হাড়হিমকারী এবং সৌন্দর্যে শ্বাসস্তব্ধকারী রাস্তা দিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার (সাড়ে চোদ্দহাজার ফিট) উচ্চতার এই পুঁচকে গ্রামটাতে পৌঁছতে হয়। এই গ্রামে আছে বিশ্বের উচ্চতম পোস্টঅফিসটি, যার পিনকোড হলো ১৭২১১৪। হিকিম গ্রামটা রাস্তা থেকে খাড়া নিচু কাদামাখা পথ বেয়ে অনবরত হড়কাতে হড়কাতে পৌঁছতে হয়। গ্রাম বলতে কয়েকটা পাথর-কাঠ দিয়ে বানানো সাদা বাড়ি (যাদের জানলায় এদিককার মার্কামারা কালো বর্ডার), পোস্টঅফিসটি এবং তার পাশে একটি ক্যাফে। এই ক্যাফেটির প্রধান ব্যবসা হলো সচিত্র পোস্টকার্ড বিক্রি করা এবং ঠিকানা লিখে দিলে সেগুলো পোস্ট করার ব্যবস্থাও করা। আমরাও কয়েকখানা পোস্টকার্ড ছেড়ে দিলুম এখান থেকে।

07 Hikkim

হিকিমের হড়কানো পথ

07 Hikkim 2

পোস্টকার্ড বিক্রেতা ছেলেটার অঙ্কে দক্ষতা দেখলাম হুবহু আমার মেয়ের মতো। তার দোকানের রেটকার্ড হচ্ছে “শুধু পোস্টকার্ড – ২৫ টাকা পিস; পোস্টকার্ড কিনে পোস্ট করার অর্ডার দিলে ৫০ টাকা পিস।“ এহেন অবস্থায় আমি যদি একসেট পোস্টকার্ড কিনি (১ সেট = ৬ পিস) এবং তার মধ্যে ৪টি পোস্টকার্ড পোস্ট করি, তাহলে কতো দিতে হবে ? ছোকরা প্রথমে ৬কে ২৫ দিয়ে গুণ করলো, তারপর ৪কে ৫০ দিয়ে গুণ করলো, তারপর আবার ৪ দিয়ে ২৫কে গুণ করলো তারপর…তারপর আর কিছু করতে পারে নি কারণ আমি তার খাতা কেড়ে নিয়ে ঘ্যাঁচ করে সব কেটে দিয়ে ২৫০/- লিখে দিয়েছিলাম আর দাঁত খিঁচিয়ে বলেছিলাম “ত্রৈরাশিক না ভগ্নাংশ, কোনটা দিয়ে করছো, বাছা ?”

এখানে পোস্ট করা সব চিঠি গন্তব্যে পৌঁছয় না – গড়ে প্রতি দুটোতে একটা চিঠি হারায়। কিন্তু তবুও এখান থেকে পোস্টকার্ড পাঠাবেন অবশ্যই। ছোটবেলায় কাগজের নৌকো ভাসাবার সময় তাতে যখন নাম লিখতেন, ভাবতেন কি যে সে নৌকো আদৌ কারোর হাতে গিয়ে কোনদিন পড়বে কিনা? তবুও – ভাসাতেন তো?

পরের গন্তব্য কমিক গ্রাম। হিকিম থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে। ৪৫৮৭ মিটার উচ্চতা, জনসংখ্যা ১১৪। পৃথিবীর উচ্চতম “গাড়িতে-করে-যাওয়া-যায়-এমন” গ্রাম। গ্রামের ওপরে যেখানে গাড়ি থামে, সেখানে একটা ক্যাফে-রেস্তোরাঁটা রয়েছে – তারাও দেখলাম লিখে রেখেছে তারা নাকি পৃথিবীর উচ্চতম “গাড়িতে-করে-যাওয়া-যায়-এমন” ক্যাফে! আশেপাশে দুএকটা হোমস্টেও আছে, তারাও নিজেদের পৃথিবীর উচ্চতম “গাড়িতে-করে-যাওয়া-যায়-এমন” হোমস্টে বলে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। কি জানি – হয়তো এই উচ্চতম ব্যাপারটা না লিখলে ট্যুরিস্ট মহলে তেমন পাত্তা পাওয়া না। যদিও আশেপাশের দৃশ্য মনোমুগ্ধকারী।

কমিক গ্রামে দুটি মনাস্ট্রি আছে – দুটিরই একই নাম – তানগুড মনাস্ট্রি। কি হলো – অতো ভুরু কুঁচকে কি ভাবতে বসলেন? আরে মশাই, এই নামটা তো চেনা – কাজার শাক্য মনাস্ট্রিটারও অন্যনাম তো তানগুড মনাস্ট্রি। শাক্য সঙ্ঘের মনাস্ট্রি – মানে ওই বিক্রমশিলা – কদম সঙ্ঘের পরবর্তী যে তিনটি সঙ্ঘ উঠে আসে, তাদের একটি। এবার মনে পড়ছে? এই দুটি মনাস্ট্রির একটি পুরনো এবং প্রায় পরিত্যক্ত, নতুনটাতে প্রায় জনা-তিরিশ লামা থাকেন। একটা স্কুলও চালানো হয়।

DSC_1631_c

কমিকের “এখন-নতুন” মনাস্ট্রি – মনিদীপার তোলা ছবি

এই নতুন-পুরনো নিয়ে আবার গল্প আছে। লোকে বলে এই নতুনটা আসলে নাকি ব…হু বছর আগেকার। এখানে নাকি মহাকালের মূর্তি আছে। এটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় লোকেরা হিকিমের কাছে নতুন একটি মনাস্ট্রি বানিয়ে তাতে চলে যায়। কিন্ত মহাকালের ওই মূর্তিটাকে কেউ নাড়াতে পারে নি। শেষে এক লামাকে মহাকালের সেবাইত হিসেবে রেখে বাকিরা চলে যায় হিকিমে, নতুন মঠে। পরে একটি ভূমিকম্পে হিকিমের নতুন মনাস্ট্রিটা নাকি ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় কিন্তু এই পুরনো মনাস্ট্রি নাকি তার মহাকালের মূর্তি নিয়ে অটুট থাকে। তখন সবাই আবার ফিরে আসে এবং এই মনাস্ট্রিটা নতুন করে গড়ে তোলে।

এই “এখন-নতুন” মনাস্ট্রিটা চিনে স্টাইলে তৈরি। দোতলা, রেকট্যাংগুলার, সাদা-লাল-নীল রঙ, জানলার চারপাশে কালো বর্ডার। সামনে তিব্বতী দার-ইকগ পতাকা। (কি বললেন – দার-ইকগ আবার কি? তৃতীয় পর্বে গিয়ে রিভাইস করে আসুন মশাই – এতো ভুলোমন হলে চলবে কি করে?) মনাস্ট্রিতে মেয়েদের ঢোকা বারণ, তাই একাই গেলাম ভেতরে। ছবি তোলা যথারীতি বারণ। মনাস্ট্রিতে ঢুকেই দেখলাম একটি স্টাফ করা স্নো-লেপার্ড (এই একটিমাত্র স্নো-লেপার্ড দেখেছি আমি), লোকজন কেউ কোত্থাও নেই। মনাস্ট্রির প্রার্থনাঘরটি একতলায় একটু নিচুমতন, সেটা প্রথমটায় চোখে পড়ে না। তাই সেটাকে দেখতে না পেয়ে ভুল করে আমি সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম একটা বেশ বড়ো হলঘর, দুজন মহিলা সেটা ঝাঁট দিচ্ছেন। বুঝলাম শতাব্দীপ্রাচীন ভণ্ডামি আজো চলিতেছে – মেয়েদের প্রার্থনা করতে দিতেই যতো আপত্তি, তাদেরকে মিনি-মাগনা খাটিয়ে নিতে বিশেষ আপত্তি নেই। তারপর কোনদিকে যাই ভাবতে ভাবতে ডাইনে মোচড় মেরে দেখি – ওবাবা, এতো লামাদের থাকবার জায়গা। আর তার প্রথম ঘরটাই হলো একটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাথরুম।

একটুও বাড়িয়ে বলছি না, বাথরুমটা ঝকঝকে পরিষ্কার, রুচিপূর্ণ টালি মোড়া, ওয়েস্টার্ন স্টাইলের, তোয়ালে-জল-টয়লেট পেপার সব আছে। আমার এদিকে বাথরুম পাবো-পাবো করছিলো অনেকক্ষণ থেকেই, তাই এই চমৎকার বাথরুমটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে ফেললুম। মনে মনে ভাবলাম – এতো আমার নিছক বাথরুম করা নয়, এ আমার তীব্র সিম্বলিক প্রতিবাদ – মেয়েদেরকে এই মনাস্ট্রিতে ঢুকতে না দেওয়ার অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। আমার মহিলা বন্ধুরা, যারা বলেন যে আমাকে কোনো নারীবাদী প্রতিবাদে পাওয়া যায় না – প্লিজ নোট!!

তীব্র প্রতিবাদটা সেরে নিচে এসে প্রার্থনাগৃহটায় উঁকি মারলাম। আহামরি কিছু নয়, মহাকালের মূর্তিটিও কোথায় কে জানে। অতএব মানে মানে কেটে পড়লাম।

এর তুলনায় আমার কমিকের পুরনো পরিত্যক্ত মনাস্ট্রিটা বেশ লাগলো। মাটির তৈরি, হলুদ দেয়াল, মূল প্রার্থনাগৃহের ওপরে সোনালী রঙের ধর্মচক্র ও দুপাশে দুটি হরিণ। চারকোনে চারটি সোনালী ধ্বজ, যা নাকি বুদ্ধের প্রতীক। কেউ নেই ভিতরে, তাই এখানে চুপ করে বসে থাকতে ভারী ভালো লাগে।

DSC_1623

কমিকের পুরনো মনাস্ট্রি – মনিদীপার তোলা ছবি

 

কমিকএর সেই পৃথিবীর উচ্চতম “গাড়িতে-করে-যাওয়া-যায়-এমন” ক্যাফেতে দুপুরের খাওয়াটা সারা হলো। এখানে একটা কমলা রঙের বেশ অভিনব চা খেলাম, যার নাম “সি-বাক-থর্ন” চা (স্থানীয় নাম নাকি তিরকু চা)। এই সি-বাক-থর্ন তিব্বতী ওষুধে ব্যবহার হতো বহুশতাব্দী ধরে – এখন নানান আয়ুর্বেদিক ওষুধে এর প্রয়োগ হয়। আমাদের রামদেববাবার পতঞ্জলিও এর জুস বানিয়ে বিক্রি করছেন আজকাল!

কমিক থেকে লাংজায় গিয়ে পৌঁছলাম তখন বিকেল হয়ে গিয়েছে। মেঘলা আকাশে কমলালেবু রঙের সূর্যমশাই টুপ করে ডুব মারবার মতলব ভাঁজছেন। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সোনালী আলোর চাদর। সেই বিকেলের কনে-দেখানো-আলোয় আমরা দেখে ফেললাম লাংজার হাজার বছরের পুরনো সোনালী রঙের বিশাল বুদ্ধমূর্তিটিকে। আর সামনের ল্যান্ডস্কেপ জুড়ে থাকা চাউ-চাউ-কাং-নেল্ডা পর্বতটিকে (আমাকে কিছু বলবেন না; নামটা ওইরকমই)।

লাংজা-কমিক-হিকিম – এই তিনটে জায়গাতেই পাওয়া যায় ট্রায়াসিক-জুরাসিক যুগের প্রাচীন ফসিল – আমোনয়েড, ট্রাইলোবাইট ইত্যাদি। এ সেই যুগের কথা, যখন হিমালয় বলে কিছু ছিলো না, ছিলো গন্ডোয়ানা আর কাইমেরা, তার মাঝে পেলিও-টেথিস সমুদ্র। সেই সমুদ্রের একটা অংশ পরে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ায় ভাঁজ মেরে হয়ে যায় হিমালয়। সেই থেকে এখানে রয়ে গেছে সামুদ্রিক সব প্রাণীদের ফসিল।

DSC_1595_c

লাংজার সোনালী বুদ্ধ – মনিদীপার তোলা ছবি

07 Langza 2

লাংজায় বিকেল

লাংজায় ঘুরে বেড়াতে বেশ লাগছিলো। অবশেষে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো – এখানে কি রাতে থাকবো?

দেখলাম লাংজার গ্রাম যেটি (যার নাম লাংজা-ইয়ংমা), সেটি গাড়ির রাস্তা থেকে কর্দমাক্ত-পাকদণ্ডী বেয়ে মাইলখানেক নিচে। মালপত্র নিয়ে যাবার কুলি নেই, “আপনা-হাত-জগন্নাথ”। মেরে কেটে যদি নিচে নামতেও পারি, সকালে হার্গিজ উঠতে পারবো না বলেই আমার বিশ্বাস। এসব দেখেশুনে, ভেবেচিন্তে, পাতি-বাঙালীর অ্যাডভেঞ্চার ক্ষমতা আসলে কতটা তার একটা নিরপেক্ষ মাপজোক করে লাংজায় থাকার পরিকল্পনা ত্যাগ করলাম।

গুটিগুটি কাজাতে ফিরে এলাম সেরাত্রে।

(চলবে)

——————————-

উত্তরকথন

পরে জেনেছিলাম হিকিমের পোস্টঅফিসের পোস্টমাস্টারের নাম রিনচেন চেরিং; ১৯৮৩এ এই পোস্টঅফিস খোলা থেকেই তিনি এখানকার পোস্টমাস্টার। একাই চালান এই পোস্টঅফিস (মানে অফিসিয়াল কেউ নেই; একআধজন রতন থাকলেও থাকতে পারে)। তার সঙ্গে দেখা করি নি কেন ভেবে আপসোস হয়।

হিকিম থেকে চিঠি পায়ে হাঁটা পথে যায় কাজা; সেখান থেকে রেকং-পিও হয়ে সিমলা। সিমলা থেকে ট্রেনে কালকা, সেখান থেকে বাসে দিল্লি। তারপর সারা ভারতবর্ষে।

হিকিমের থেকেও উঁচু একটা পোস্টঅফিস আছে যেটা এভারেস্ট বেস-ক্যাম্পে। কিন্তু সেটা কোন পাকা পোস্টঅফিস নয় বলে সেটাকে হিসেবে ধরা হয় না। অন্তত গিনেস বা লিমকা বুক অফ রেকর্ডস সেটাকে ধরে না।

কমিকের সেই “এখন-নতুন” মনাস্ট্রি, যেখানে আমি আমার তীব্র প্রতিবাদ রেখে এসেছি, সেখানে নাকি নানান আশ্চর্য জিনিস লুক্কায়িত আছে। ড্রাগনের ডিম, একশৃঙ্গের সিং, ভেড়ার ওপরের মাড়ির দাঁত, এক ভয়ানক দানবের পাঁজরের টুকরো আর প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ল্যাজ। থাকতেই পারে, এতে অবাক হবার তো কিছু নেই। তবে ওই ভেড়ার ওপরের মাড়ির দাঁতটা আমার বিশ্বাস হয় নি মশাই। ওটা বড্ডো বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।

3 Comments

  1. যথারীতি ভীষন ভাল! আমি যদি কখনো যেতে পারি তবে মনাস্ট্রিতে যাবেই যাব! জেরুস্লামের গীর্জায় ঢুকে খ্রিস্টানদের সাথে লাইন দিয়ে ব্রেড আর ওয়াইন খেয়ে এসেছি যখন তখন মনাস্ট্রিতে ও ঢুকতে পারবো! 😆
    পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    Like

    জবাব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s