পার্বত্য-মরুর দেশে আমরা – ৫

পঞ্চম পর্বঃ টাবো থেকে ধনকর হয়ে পিন ভ্যালী

পরদিন সকালে সাজো-সাজো রব। আজ লম্বা যাত্রা – টাবো দেখে ধনকর দেখে পিন ভ্যালিতে রাত্রিবাস। মানে সকালে ব্যাগ গোছানো ইত্যাদি। সকালে তাই ব্রেকফাস্টে সাদাসাপটা পুরি-ভাজি-পরোটা-ডিম (বউ পুনরায় তিব্বতী সাম্পা)। কিন্তু তার আগে পূর্বরাত্রের তিব্বতী সায়মাসে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাক।

তিব্বতী খাবার বললেই আমার মনে পড়ে আমার মামারবাড়ীর পাড়া এলগিন রোডের তিব্বতী দোকানগুলো। আশীর দশকে সম্ভবত কলকাতার শুধু ওইখানেই তিব্বতী খাবার (যা প্রধানত ছিলো মোমো) পাওয়া যেতো। চারটে দোকান ছিলো (আজো তারা আছে) – সুবার্বান হসপিটাল রোডের ওপর একটি গ্যারেজের মধ্যে “হামরো মোমো”, পুরোনো বাড়ির ভিতর “মোমো প্লাজা” আর “অর্কিড”, এবং বড়ো রাস্তা থেকে সরু একটা গলি দিয়ে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় “টিবেটান ডিলাইট”। তখন টিবেটান ডিলাইটের সবচেয়ে হিট আইটেম ছিলো স্টিম পর্ক মোমো, ওসব চিকেন মোমো-টোমোকে আমরা পাত্তাই দিতাম না। স্টিম পর্ক মোমোর সঙ্গে একটা বাটিতে দেওয়া হতো গরম স্যুপ – যে জলে মোমো স্টিম করা হয়েছে, সেটাই – সামান্য কলি পিঁয়াজের টুকরো দিয়ে। টেবিলে ছোট্ট ছোট্ট কৌটোয় থাকতো পাঁচ রকমের সস – সয়া, সবুজ চিলি (কিন্তু চিনে চিলি সসের থেকে একটু আলাদা), লাল লঙ্কার বেদম ঝাল একটা সস, একটা সম্ভবত কাঁচা লংকা- ভিনিগার , শেষেরটা মনে নেই। ওই স্যুপে এইসব সস ছোট্ট ছোট্ট চামচে করে মিশিয়ে নিয়ে খেতে হতো। কোন সস কতটা দিতে হয়, সে নিয়ে প্রচণ্ড বিতর্ক ছিলো – অনেকটা ফুটবলের লাইনআপের মতন – কোন ছকে খাওয়া হবে – ৫-৩-৩-১-১ নাকি ৪-২-২-১-১। যারা হার্ডকোর মোমো খাইয়ে, তারা ওই ৫-৩-৩-১-১ ছকে খেতো – অর্থাৎ দুরকম চিলি সসই তিন চামচ করে। এলেবেলেরা ৪-২-২-১-১। মনে আছে একবার এক বন্ধু সেখানে টম্যাটো সস চাওয়ায় ওয়েটার তার দিকে বিশ্রীভাবে তাকিয়েছিলো। বেশী খিদে থাকলে এর পর ১/২ থুপকা – অর্থাৎ নুডলস আর ভাসমান পর্ক এবং কিছু সবজী দেওয়া একটা স্যুপ। তাতে কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য ছকে সস মেশাতে হতো – মোমোর ছকে থুপকা খেলে তাকে বেজায় হ্যাটা করা হতো। দাম ছিলো অবিশ্বাস্য রকম কম – স্কুলের পকেটমানিতেও এখানে খাওয়া যেত সহজেই।

এই গলির মোমোর দোকান জাতে উঠে গেল ১৯৯০ সালের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় থেকে। সেবছর সিনেমা দেখানো হয়েছিলো নন্দন, নন্দন ২, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র সদন আর সম্ভবত সরলা মেমোরিয়ালে। সেই বাবদ গুচ্ছের ফিল্ম-বাফরা এলো কলকাতায় – দাড়িওয়ালা ঝোলাধারী ইন্টেলেকচুয়াল সব। তখনো আঁতেলরা সরকারী-বেসরকারী চ্যানেল ধরে টুপাইস কামিয়ে নেবার কালচারটা ঠিক তৈরি করে উঠতে পারে নি কাজেই এরা নেহাতই সিনেমা ভালোবাসা একদল পাগল। এবং ফলত সব ব্যাটা ট্যাঁকখালির জমিদার। দুপুরে এবং রাত্তিরে খাবে কি? অতএব সব ব্যাটা ভিড় জমাতো এই মোমোর দোকানগুলোতে। সেই থেকে এই পাতি মোমোওয়ালাদের নামডাক হয়ে গেল চাদ্দিকে। ব্যাস – এদের দর গেলো বেড়ে, খাবারের দামও গেলো বেড়ে। তারপর তো মোমো জিনিসটা এদিকওদিক ছড়িয়ে পড়লো, সর্বত্রই পাওয়া যায় এখন – ফুচকা বা রোলের মতোই স্ট্রিট-ফুড – তার সেই এক্সক্লুসিভ মেজাজটাই গেছে চলে। বেশী কথা কি – আমাদের গুরগাঁওয়ে বাড়ির পেছনের রাস্তাতে ছোলে-কুলচার দোকানের পাশে অবদি দুটো মোমোর ঠেলাগাড়ি বসে! মুজতবা আলির থেকে প্যারাফ্রেজ করে বলি “ছি ছি বললে যথেষ্ট নয়, তোবা তোবা বলতে হয়।”

যাক গে, এসব “সে আমাদের দিন ছিলো রে ভাই” বলে আপনাদের বিরক্ত করে লাভ নেই। কি খেলাম সেটা বলি।

প্রথম পদঃ থেমথুক। এক প্রকারের স্যুপ। সাধরনত নুডলস দেওয়া থাকে, আমাদেরটাতে কিন্তু ছিলো না। কিছু সবজি দেওয়া ছিলো। একটু লেবু কচলে দিতে স্বাদবৃদ্ধি পেলো। তিব্বতীরা অবিশ্যি লেবু চিপকে খায় কিনা জানা নেই।

দ্বিতীয় পদঃ আলুর ফিং। আলু, পালং শাক এবং গ্লাস নুডলস দিয়ে অতি উপাদেয় একটি খাবার। আপনারা কেউ কি জো নেসবোর হ্যারি হোল সিরিজ পড়েছেন? তাহলে নিশ্চয়ই আপনার মনে পড়বে কাজা সলনেস নামের সেই সুন্দরী পুলিশ ইনস্পেকটরকে, যে হ্যারির জন্যে হংকং-এর বিখ্যাত লি-উয়ানের দোকান থেকে গ্লাস নুডলস আনিয়েছিলো ক্যুরিয়ার করে আনিয়েছিলো সুদূর নরওয়েতে। আমাদের জন্যে কোনো সুন্দরী এরকম কখনো করে নি কেন ভেবে বুকচেরা একটা দীর্ঘশ্বাসও পড়বে। তারপর… যাক গে, বইটা পড়েন নি যখন, বাদ দিন। আগে বাড়া যাক।

তৃতীয় পদঃ শাপটা। তিব্বতী স্টাইলের চিকেন কারী। পিঁয়াজ আর সবুজ লঙ্কা দেওয়া। ঝাল ঝাল। হুল্লাট খেতে।

চতুর্থ পদঃ থিংমো। স্টিম করা বান। অনেকে এটাকে চিনে রুটিও বলে থাকেন। অনেকটা মাথার পাগড়ি-টুপির মতো দেখতে। আলাদা করে এমন কিছু ভালো খেতে নয় তবে শাপটার সঙ্গে জমে ভালো। আলু ফিংএর সঙ্গেও বেশ লাগে।

পঞ্চম পদঃ চিকেন মোমো। বলাই বাহুল্য। বেশ ভালো, তবে ওই টিবেটান ডিলাইটের মতো হয় নি মশাই।

চলুন, খাবার গপ্পো ছেড়ে এবার মনাস্ট্রির দিকে নজর দেওয়া যাক। পয়লা মনাস্ট্রি হলো গিয়ে টাবো।

টাবো মনাস্ট্রির ভালো নাম “টাবো চোসখোর মনাস্ট্রি” – “চোসখোর” মানে “একটি বিদ্বান গোষ্ঠী” গোছের কিছু। ৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয় এটা। এটা বানিয়ে ছিলেন ইয়েশে-ওদ নামের একজন, তিনি ছিলেন গুয়ে রাজ্যের রাজা। তখন সম্ভবত এই অঞ্চলটি গুয়ে রাজ্যেরই অংশ ছিলো। কিন্নরের দিক দিয়ে যারা আসবেন, তারা গুয়ে মনাস্ট্রি সহজেই দেখে আসতে পারবেন।

এখানে কিঞ্চিৎ সাল-তারিখ নিয়ে গোলমাল আছে। বলা আছে এই গুম্ফা তৈরি করেছিলেন রিনচেন জাংপো, গুয়ের রাজার হয়ে। এই রিনচেন জাংপোই কি সেই রাজা, যিনি অতীশ দীপঙ্করকে তিব্বতে আনিয়েছিলেন? তাই যদি হয়, তবে তো সে ঘটনা ৫০ বছর পরের, কারণ অতীশ দিপঙ্কর তিব্বতে এসেছিলেন ১০৪০ বা ১০৪২ সালে। এর একমাত্র সন্তোষজনক ব্যাখ্যা হচ্ছে ইয়েশে-ওর নাতি এই গুম্ফাটি মেরামত (প্রায় পুনর্নির্মাণ) করেছিলেন এটি নির্মাণের ৪৬ বছর বাদে। সম্ভবত তিনিই রিনচেন জাংপোকে এই কাজটি দিয়েছিলেন। এইটে ধরে নিলে অঙ্কটা বেশ নিখুঁত মিলে যাচ্ছে।

মরুক গে ওসব অঙ্ক আর ইতিহাসের টাইমলাইন – আমরা একটু ঘুরে দেখে নি। এটি আদতে একটি মাড মনাস্ট্রি – মাটির তৈরি। না মশাই – “মাটি দিয়ে বুঁদির মতো নকল কেল্লা পাতি” নয় – মাটি এবং কাঠ দিয়ে তৈরি আসল গুম্ফা এটি। এইভাবেই কালের সঙ্গে যুদ্ধ করে এই মনাস্ট্রিটির অবস্থা এখন সঙ্গীন। ১৯৭৫এর ভূমিকম্পে এর বেশ কিছু অংশ ভেঙেও পড়েছিলো – তার পরে এর প্রধান প্রার্থনাগৃহ, যাকে বলে “দু-কাং”, সেটি নতুন করে বানানো হয় ১৯৮৩তে। সেখানেই দালাই লামা দুবার “কালচক্র” প্রক্রিয়া করেছিলেন। কালচক্র কি জিনিস জিগ্যেস করবেন না – সেটা এই তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মের অতি জটিল একটি অঙ্গ। বিশদ জানতে হলে একটু অন্তর্জাল ঘাঁটুন মশাই!

05 Tabo Monastry

দু-কাং – যেটা নতুন তৈরি হয় ১৯৮৩তে

05 Tabo - Mud Monastry

মাড মনাস্ট্রি – মাটির তৈরি

টাবো মনাস্ট্রির প্রধান আকর্ষণ হলো এর থাঙ্কা-ফ্রেসকো-ম্যুরালস এর সংগ্রহ। মূল দু-কাংকে একপাশে রেখে তার ডানদিকে একটু গেলে একটা নিচু দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন দেয়ালে আশ্চর্য সব চিত্রমালা। এর জন্যেই একে অনেকে “হিমালয়ের অজন্তা” বলে থাকেন। এক অর্থে এটি অজন্তার থেকেও ভালো কারণ এর চিত্রমালাগুলো, যেগুলো ওই পুরনো মন্দিরের ভিতরে আছে, সেগুলোর অবস্থা অজন্তার থেকে অনেক ভালো। ছবি তোলা নিষিদ্ধ – তাছাড়া ভিতরে আলো কেবলমাত্র একটি স্কাইলাইট দিয়ে আসে। কাজেই দেখতে হলে এখানে যেতে হবে কর্তা। তবে বাইরের কয়েকটা ছবি দিলাম।

05 Tabo Monastry Golden

গোল্ডেন টেম্পল – টাবোতে

এখান থেকে আমরা একটু তাড়াহুড়ো করেই বেরোলাম – কারণ আসার রাস্তায় গুড়িগুড়ি করে মাটি আর পাথর পড়ছিলো পাহাড়ের গা বেয়ে। তার ওপরে আকাশে কালো মেঘ। বৃষ্টি নামলে মোক্ষম ঝামেলা হবে আশঙ্কা করে সোনু আমাদের নিয়ে গেলো টাবো থেকে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার দূরে ধনকর গুম্ফায়। যা ছিলো সপ্তদশ শতাব্দীতে স্পিতির রাজধানী।

ধনকর গুম্ফা নিয়ে নানান কিংবদন্তী আছে। এই ধনকর মনাস্ট্রি নাকি একটি পদ্মফুলের মতো – এর চারপাশে আটটি পর্বত আসলে আটটি প্রাচীন স্থানীয় দেবতার প্রতীক। এই অঞ্চলের অনেকে বিশ্বাস করেন এটি এই অঞ্চলের সবথেকে পুরোনো গুম্ফা – টাবোর থেকেও পুরোনো। প্রমাণস্বরূপ তাঁরা বলেন যে প্রাচীন পুঁথিতে নাকি আছে যে ইয়েশে-ওদ (মানে যিনি টাবো মনাস্ট্রি তৈরি করেছিলেন) এটির মেরামত করিয়েছিলেন (অর্থাৎ তার আগে থেকেই ছিলো)। কেউ কেউ এও বলেন যে এখানে এক দানবের অধিষ্ঠান ছিলো; সেই দানবকে সংহার করেই নাকি এই বর্তমান ধনকর মনাস্ট্রি তৈরি হয়েছে গেলুগ সম্প্রদায়ের হাতে – সম্ভবত সেই রিনচেন জাংপোর হাতেই (কোন রিনচেন জাংপো মনে আছে তো ? যিনি টাবো মনাস্ট্রির পুনর্নির্মাণ করেছিলেন আর অতীশ দীপঙ্করকে এনেছিলেন তিব্বতে, তিনিই। আরে মশাই, এই তো বললুম একটু আগে!!)

05 Dhankar

ধনকর গ্রাম ও মনাস্ট্রি

ধনকর মনাস্ট্রির গঠন কিছুটা কিই মনাস্ট্রিকে মনে করায় – ওই রকম দুর্গের মতোর বহুতল ধাঁচে তৈরি। পাহাড়ের গায়ে এই মনাস্ট্রিটি আছে, আর সেই পাহাড়ের গায়ে গায়েই নিচের দিকেই ধনকর গ্রাম। গুম্ফাটির ভেতরেও রয়েছে অপূর্বসুন্দর কিছু থাঙ্কা। আর আছে প্রমাণ সাইজের একটি রুপোর মূর্তি – বুদ্ধের বজ্রধারা রূপে। এই বজ্রধারা রূপের বুদ্ধই নাকি তিব্বতে তান্ত্রিক বৌদ্ধ রীতির জনক। এখানে অবশ্য ছবি তোলাতে বাধা নেই – বা বলা ভালো বাধা দেবার জন্যে কেউ নেই – চারদিক বিলকুল খালি। মিত্রজায়া সুগতার মতে অবশ্য এর মধ্য কোন “তুকতাক” করা আছে, কারণ তার বা তার ছেলের ছবি নাকি কিছুতেই তোলা যাচ্ছিলো না গুম্ফার ভিতরে। কে জানে বাবা, আমি যেগুলো তুললাম, সেগুলো তো দিব্বি উঠলো! তবে আমি যে ঘোর পুণ্যাত্মা ব্যক্তি, সে বিষয়ে আমার বরাবরই বিশ্বাস ছিলোই; সেই পুণ্যফলে উঠেছে কিনা বলতে পারি না। তবে বজ্রধারা বুদ্ধের ছবি তুলতে পারি নি – তিনি অজস্র স্কার্ফ এবং ফুলের পাহাড়ে চাপা পড়ে ছিলেন বলে। তাছাড়া আমার পুণ্যের জোর অতটা কিনা তাও জানা ছিলো না – রিস্ক নিয়ে লাভ নেই।

05 Dhankar Buddha

ধনকর মনাস্ট্রির মধ্যে – পিছনে বজ্রায়ন বুদ্ধ

05 Dhankar 2

ধনকর মনাস্ট্রির ভিতরে

06 Dhankar Thanka 2

ধনকর মনাস্ট্রির দেওয়ালে ঝোলানো থাঙ্কা

05 Enroute Pin Valley

পিন ভ্যালীর পথে

 

ধনকর ছেড়ে চললাম পিন ভ্যালীর দিকে। পিন ভ্যালী আসলে একটি ন্যাশনাল পার্ক, সেখানে নাকি সাইবেরিয়ান আইবেক্স আর স্নো লেপার্ড দেখতে পাওয়া যায়। আমরা মশাই ওসব দেখতে পাই নি, তবে এই রাস্তায় সবুজের বাহার আছে, তা নিশ্চিত। একসময় আমাদের স্পিতি নদীর সঙ্গে পিন নদীর দেখা হলো, তখন স্পিতিদেবীকে টা-টা বলে পিনের সঙ্গে চললুম। তারপর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যের আগে পৌঁছলাম পিন ভ্যালীর মাড গ্রামে – হোটেল পিন-পার্বতী গেস্ট হাউসে। তারপর সেই রাত্রে …

উঁহুহুহু – সেকথা পরের পর্বে! আজ এই অব্দি।

05 Pin and Spiti

পিন-স্পিতির সঙ্গম

উত্তরকথন

————————————————–

টাবো মনাস্ট্রির মধ্যে নাকি থাকার ব্যবস্থা আছে ! খোঁজ করে দেখতে পারেন।

টাবোর মনাস্ট্রিতে নাকি একটি কালভৈরব এবং গনেশের মূর্তি আছে। অবশ্যই তারা তিব্বতী তন্ত্রের অংশ হয়ে বেনামে বিরাজ করছেন। চমকে গেলেন নাকি? আরে কাঠমান্ডুতে দরবার স্কোয়ারে যে একটি তিব্বতী কালভৈরবের মন্দির আছে, সেটা দেখে এই প্রশ্ন মনে জাগে নি? অবশ্য নেপালের ভূমিকম্পের পর সে আর আছে কিনা সন্দেহ।

ধনকর মনাস্ট্রির কাছেই মনাস্ট্রির গেস্টহাউস। সেখানেই আমরা লাঞ্চ সেরেছিলাম। খাবার পরে বাইরে বেরিয়ে দেখেছিলাম একদল বাচ্চা লামারা একটা মাটির ঢিবি নিয়ে খেলছে। সেটাই তাদের কেল্লা-গুহা-খেলনাবাটি। ওদের সঙ্গে খেলতে বড্ডো ইচ্ছে করছিলো – কিন্তু এই সরল খেলাটার নিয়মগুলো বহুদিন আগে ভুলে গেছি।

পিন ভ্যালীর মাড গ্রামটি কিন্তু একটু একটেরে মতন জায়গা। অর্থাৎ সন্ধ্যার পরে বিশেষ কিছু করবার থাকে না। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঠিক ঘরে বসে উপভোগ করার মতো নয় – যদি যাকে বলে “হলিডে ওয়েদার” থাকে, তবে সকালে উঠে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগবে। কাজেই অন্তত দুটি পরিবার হলেই সুবিধে – অন্তত বাদলা দিনে ২৯ খেলতে পারবেন।

3 Comments

  1. বাহ, দারুন। তোকে publisher রা এবার থেকে পয়সা দিয়ে ঘুরতে পাঠাবে। এরকম একদম নতুন স্বাদের লেখা পড়তে আমার তো খুব ভালো লাগছে। আমার যে টা করে থাকি, যা খাই, দেখি , তার সাথে এনাদের সবকিছুই মিলিয়ে নি, compare করি – তুইও তাই করছিস, কিন্তু তাতেও একটা নতুন আস্বাদ পাচ্ছি। চালিয়ে যা।

    Like

    জবাব

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s