গল্প লেখার গল্প

গল্প লিখবো একথা প্রথম ভেবেছিলাম হেমেন রায়ের “যকের ধন” পড়ে। তখন বোধহয় ক্লাস ফোর বা ফাইভে পড়ি। দু চারটে গল্প লিখেও ফেলেছিলাম বোধহয়। কালের কপোলতলে একবিন্দু নয়নের জল তো নয়ই, প্রগাঢ় ঠাট্টা হিসেবেও তারা টিকে থাকে নি। ভাগ্যিস। নইলে মুখ দেখানো শক্ত হতো।

পরবর্তী অধ্যায়  কলেজে। তখন আমি আবার শিল্প-সাহিত্যের অন্যতম ধারক-বাহক; নাক উঁচু পাঠক এবং তীব্র সমালোচক। কাম্যুর বুদ্ধিদ্বীপ্ত ছুরিতে সোনার মাছি খুন করে থাকি, সন্দ্বীপণের ধারালো গদ্যের ঝলকানিতে চিত্ত ঝলমল করছে।

লম্বা কাট। চাকুরী জীবন। ব্যস্ততা। হিল্লি-দিল্লি-বিলেত ঘুরে বেড়াই, ঝকঝকে পাওয়ার-পয়েন্ট আর চকচকে ইংরিজিতে। ল্যাতপ্যাতে বাঙ্গালিয়ানার সময় কই ? আমি তখন কর্পোরেট জগতের ভীম ভাসমান মাইন বলে কথা।

এরই এক ফাঁকে কলেজ দিনের মিত্র বিপ্লব পালের সৌজন্যে ব্লগ নামক জিনিসটার সঙ্গে আলাপ হলো। দেখলুম ব্যাপারটা বেশ ফাশ্যানেবল। মুখশ্রী না হলেও বেশ রংচঙে মুখোশ। শুরু করে দিলাম সেটা। ২০০৪ সাল।  ইংরিজিতে ব্লগ লিখতাম। প্রধানত উডহাউসীয় ভঙ্গীতে ভাষার খেলা, রসিকতা, মাঝে মাঝে কিছু বইএর রিভিউ। অন্তঃসার খুব বেশী না থাকলেও একটা ঝকঝকে ভাব থাকতো।

তারপর ফেসবুক। অভ্র। বাংলা। মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়ে পুনরায় ফিরে আসা। নতুন করে সাহিত্য চর্চা। চোখের জলে পুনর্মিলন। সুখেন দাস অবদি লজ্জা পেয়ে যেতেন দেখলে।

ফেসবুকে লিখতে লিখতে দেখলাম প্রচলিত সাহিত্যের (আমাদের কাছে প্রচলিত সাহিত্য মানে “দেশ”) বাইরে ওয়েবকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনা শুরু হয়েছে। ওয়েব-জীনের আগমন হয়েছে – যার মধ্যে “পরবাস” তো রীতিমত নামকরা। উঠে এসেছে নতুন এক গদ্যভঙ্গী – যার নাম “অণুগল্প” ; “বাংলা সাহিত্যের ২০-২০।” পড়তে পড়তে উৎসাহ পেয়ে গেলাম একসময়। নেমেই পড়ি?

ভয়ে ভয়ে একটা গল্প লিখে পাঠিয়ে দিলাম “পরবাস”এ। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মের দাবদাহে জ্বলতে জ্বলতে। কেয়া বাত – মনজুর হয়ে গেলো গল্পটা! মরা গাঙ্গে বান এলো। ‘জয় মা’ বলে। ৩০ শে জুন, ২০১৬।

আর এই আসন্ন ২০২০এর বইমেলায় সৃষ্টিসুখ প্রকাশনায় বেরোতে চলেছে আমার প্রথম গল্পের বই “শহরের সিম্ফনি”! যাকে বলে “কোথা হইতে কি হইয়া গেল…” কাণ্ড।