কুড়ি বছর পরের একটি দিন

ফাইলটা বন্ধ করে সেটাকে সঞ্জয়ের দিকে ঠেলে দিলেন শুভেন্দুবাবু । মাথাটা পেছন দিকে এলিয়ে দিয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে বললেন “মোটামুটি সবই বুঝিয়ে দিলাম তোকে। আমার মনে হয় না কোনো অসুবিধে হবে। আর হ’লে তো আমি আছিই। একটা এস-টি-ডি করে নিস নাহয়। “

“হ্যাঁ শুভেনদা, তুমি খুব গুছিয়েই নোটিং করে রেখেছো। মনে হয় না আটকাবো কোথাও। তাছাড়া এদ্দিন তোমার সঙ্গে কাজও তো করছি।“ বললো সঞ্জয়।

স্পেশাল কমিশনার শুভেন্দুবাবুর আজ কলকাতা পুলিশে শেষ দিন। বাইশ বছর কলকাতা পুলিশে কাজ করার পর ট্র্যান্সফার হয়ে যাচ্ছেন দিল্লীতে। হোম মিনিস্ট্রিতে। এই ধরণের ট্র্যান্সফার বড়ো একটা হয় না, কিন্তু শুভেন্দুবাবুর কর্মদক্ষতা ও চমৎকার জনসংযোগ ওঁর পক্ষে কাজ করেছে। তাই চার্জ বোঝাচ্ছিলেন ওঁর অধীনস্থ এবং বিশ্বস্ত সঞ্জয়কে। সঞ্জয় চাকলাদার। অ্যাডিশনাল কমিশনার। ভারী ভালো ছেলে।

…..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

 

https://chaityapatrika.com/bangla/2017/10/18/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A7%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8/

প্রথম প্রকাশ ঃ চৈত্য পত্রিকা, অক্টোবর ২০১৭, দীপাবলি

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : শ্রী রঞ্জন ঘোষাল – যিনি ফোনে শুনে গল্পটার ব্যাপারে কিছু চমৎকার সাজেশন দিয়েছিলেন।

Advertisements

দুই পৃথিবী

প্যারাসেইলিং -এর ডানায় ভাসতে ভাসতে একসময় বিধানবাবু সবুজ সমুদ্রের মাঝখানের ওই অপূর্ব সুন্দর দ্বীপটায় টুক নেমে পড়লেন।

বিধানবাবু যাকে বলে এক্কেবারে ছাপোষা বাঙালি। বিবাহিত, দুটি সন্তান, সরকারী চাকরি; ভবানীপুরে পৈত্রিক বাড়িতে থাকেন গত ছেচল্লিশ বছর ধরে। রবিবার সকালে শ্রীহরির দোকানের ডাল-কচুরি খান, মাসে একটি করে হিন্দি ছবি (শাহরুখ হলেই বেশি ভালো হয়) দেখেন আর বছরে একটি বার সিমলা-কুলু-মানালি-পুরী গোছের নির্ঝঞ্ঝাট জায়গায় সপরিবারে বেড়াতে যান। কোন কালে এই সব বিপজ্জনক “অ্যাডভেনচার স্পোর্টস” করেন নি। এই প্রথম পরিবার-বিনা কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে ২৫ বছরের রিইউনিয়নে গোয়াতে বেড়াতে এসেছেন। আর এইখানেই জীবনে প্রথম প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এই কাণ্ডটা ঘটলো।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB68/LEKHA/gAtanu68_duiprithibi.shtml

প্রথম প্রকাশ ঃ পরবাস ৬৮, সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শারদীয় সংখ্যা)

কবিতার জন্ম ও মৃত্যু

কাঠ-চাঁপা গাছটার তলা দিয়ে যেতে গিয়ে নিচু ডালে মাথা লাগতেই দুটো ফুল ঠিক পায়ের সামনে পড়লো। অমনি অদিতির মনটা ভারি ভালো হয়ে গেলো।

গাছটা ওর টিচার্স কোয়াটার থেকে কলেজে যাবার সোজা রাস্তায় পড়ে না। পীচের রাস্তা ছেড়ে একটা চোরা পথ ডানদিকে চলে গেছে। গাছে মোড়া সবুজ নিস্তব্ধ পথ। কেউ বড় একটা এই রাস্তায় আসে না। অদিতির খুব পছন্দের রাস্তা এটা। ঘাসের ওপর ইট ফেলা পথ, দুপাশের জুঁই আর কামিনী ফুলের ঝাড়, আর থেকে থেকে একটা করে কাঠ-চাঁপা গাছ। কিছুটা রাস্তায় ইটগুলো নেই, সেখানে ঘাসের ওপর পা ফেলে যেতে হয়। ভিজে ঘাসের শিরশিরে ঠান্ডা ভালোলাগাটা মেখে পথ চলতে বেশ লাগে ওর। এটাই ওর কলেজে যাবার নিয়মিত রাস্তা।

….

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB68/LEKHA/gAtanu68_kabita.shtml

প্রথম প্রকাশ ঃ পরবাস ৬৮, সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শারদীয় সংখ্যা)

পরমাণু গল্প ২ঃ হাওয়া

ঘুম থেকে উঠেই পারুল পিছনের বাগানে দৌড় দিলো। বাঃ, ওর গাছগুলোকে দেখতে হবে না ?

পারুলের ভাই-বোন নেই। বন্ধুও তেমন নেই – ওদের বাড়িটা মূল শহর থেকে একটু বাইরে, রাপ্তি নদীর ধারে। কুকুর-বেড়াল ওর মা দুচোখে দেখতে পারেন না, তাই তারাও নেই। ওর আছে বাড়ির পেছনের বাগানটা আর তাতে থাকা একরাশ গাছ।

গতকাল ওর বাগানের চাঁপা গাছটা ফুলে ফুলে ভরে গিয়েছে। পারুলের তাই খুব আনন্দ। মনে করছে ও যেন সেই সাত ভাই চম্পার এক বোন পারুল। অবশ্য চাঁপা ফুল সাতটা নয়, তার চেয়ে ঢের বেশী। গুনে দেখলে একুশটা।

আজ সকাল থেকে খুব হাওয়া। কিন্তু ফুলগুলো ঝরে যায় নি। পারুল নিশ্চিন্ত হলো দেখে।

ফুলগুলোরও খুব মজা। হাওয়ায় মাথা দোলাতে দোলাতে নিজেদের মধ্যে খলবল করে কথা বলছে। ফুলেদের ভাষায় অবশ্য – সে ভাষা আপনি-আমি বুঝবো না।

ফুলের জন্মটা ওদের বেশ লাগছে। খুব হাওয়া এখানে। মানুষের জন্মটা তেমন সুবিধের ছিলো না। হাসপাতালে মোটে হাওয়া ছিলো না। তাই তো বড্ডো তাড়াতাড়ি মরে যেতে হলো।

পরমাণু ১ঃ যাওয়া

“বলি, অমন থুম মুখে বসে থাকলে চলবে? কোথাও যাওয়া-টাওয়া হবে না ?” সূর্য একটু বিরক্ত হয়েই বললো।

“হ্যাঁ, হ্যাঁ, যাওয়া যাক।“ পোঁ ধরলো সমীরণ। “অনেকদিন বেরনো হয় নি। চলো, লেটস গো!!“

নীল কিছু বললো না। শুধু হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে রইলো।

মেয়েটা জানলায় বসে আছে চুপ করে। তাকে ডাকছে বৃষ্টি-থামার-পরের ঝলমলে রোদ্দুর, সোহাগ মাখা ঠাণ্ডা-ভিজে হাওয়া আর সাদা মেঘের পিছনে থাকা সহাস্য নীলাকাশ। এসো – বেরিয়ে পড়ো, শিগগীর।

মেয়েটারও মন ছটফট করছে। ও ফিরে এলেই বেরিয়ে পড়বে। বেশী দূরে কিছু নয়, এই আশেপাশেই কোথাও। একদুদিনের ছোট্ট বেড়ানো আর কি। এই অবস্থায় ডাক্তার বেশী ঘোরাঘুরি করতে বারণ করেছে। আর মাত্র দুমাস বাকি যে!

কিন্তু মুশকিল হয়েছে কি – কাল বিকেল থেকে ওর কোন খবর নেই। এদিকে নিজে খবরের কাগজেই কাজ করে! কোথাকার কোন পাঞ্জাবী সাধুবাবার বিরূদ্ধে চলা মামলার রায় শুনতে গিয়েছিলো। কাগজে লিখবে বলে। সেই থেকে লা পাত্তা।

কোনো মানে হয় !!

অনুগল্প ৩ঃ এক বর্ষণমুখর প্রভাতের কথা

পূজো শেষ করে ঘাটে চুপ বসেছিলেন ঠাকুরমশাই। আকাশে কালো মেঘ, সূর্যের দেখা নেই। বৃষ্টি আসবে।

পিছন থেকে একটা গলা খাকরানির আওয়াজ পেয়ে ঠাকুরমশাই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন। কিছু বলবার দরকার হলো না, শিষ্যের মুখ দেখেই ঠাকুর বুঝে ফেললেন কি হয়েছে। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নেড়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে আরম্ভ করলেন।

প্রতি বছরই এই হয়। এই দিনটায় এসে ব্রাহ্মণী বড্ড বিচলিত হয়ে পড়েন। সামলে রাখা যায় না তখন।

হন হন করে ঠাকুরমশাই হাঁটতে লাগলেন নিজের কুটিরের দিকে। এই সময়গুলোতে অসহায় বোধ করেন উনি। রাগ হয়ে যায় তখন। ব্রাহ্মণীর এই অবুঝপনার সত্যি কোন মানে হয় না। এতোগুলো বছর কেটে যাবার পরেও…

কুটিরে ঢোকবার মুখে হাঁসটা এসে পায়ে ঠুকরে দিলো। উহুহুহু করে উঠলেন ঠাকুরমশাই।  ব্রাহ্মণীর যতো উৎকট শখ। হাঁস আবার কেউ পোষে নাকি ? রাগটা আরও চাগিয়ে উঠলো ওনার।

ঘরে ঢুকে ঠাকুরমশাই একটু থমকে গেলেন। ভেবেছিলেন বাড়িতে ঢুকেই ব্রাহ্মণীকে বেশ দু-কথা শোনাবেন। কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখলেন ঘর অন্ধকার। বাইরের ঘন মেঘ সত্ত্বেও ঘরে আলো জ্বালা হয় নি। শ্বেতবস্ত্রা ব্রাহ্মণীকে আবছা দেখা যাচ্ছে – জানালার পাশে।  মুখখানা হাতে ভর দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন। যন্ত্রটা অবহেলায় কোলের পড়ে রয়েছে। ব্রাহ্মণের পায়ের আওয়াজ পেয়েও মুখ ঘোরালেন না।

ঠাকুরমশাই আস্তে আস্তে ব্রাহ্মণীর পাশে এসে বসলেন। কি বলবেন ভেবে পেলেন না। শুধু দেখলেন ব্রাহ্মণীর চোখের কোলে একটি মাত্র অশ্রূ শিশিরবিন্দুর মতো লেগে রয়েছে।

ঠাকুরমশাই খুব নরম সুরে বললেন “এরকম করছো কেন বলো তো! এরকম করতে নেই।“ ছায়ামূর্তি উত্তর দিলো না।

ঠাকুরমশাই আবার খুব নরম সুরে বললেন “এরকম ভাবে নিজেকে কষ্ট দিয়ো না। ও তো আর ফিরবে না। এতোগুলো বছর তো কেটে গেলো…”

“হ্যাঁ, এতগুলো বছর।“ বললেন ব্রাহ্মণী। “ওর মতো কেউ তো এলো না গো। তুমিও তো আর কাউকে আনতে পারলে না। পারলে ?”

প্রজাপতি ব্রহ্মা চুপ করে রইলেন। হঠাৎ ওই হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার জন্যে বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে উঠলো। একটা অক্ষম বেদনা পাঁজরে এসে ধাক্কা দিলো। মনটা বড্ডো খারাপ হয়ে গেলো ওনার।

সত্যি কতোগুলো বছর কেটে গেলো। আর কেউ এলো না, যার হাতে সরস্বতী তাঁর বীণাখানি তুলে দিতে পারেন। বলতে পারেন

“এই নে আমার বীণা, দিনু তোরে উপহার।

যে গান গাহিতে সাধ, ধ্বনিবে ইহার তার।“

আজকের দিনেই ছেলেটা চলে গিয়েছিলো। ছিয়াত্তর বছর আগে। ২২শে শ্রাবণে।

———————————————————————————————————————————

৮.৮.২০১৭

ভোরের আগের গান

বিধানবাবু সবে বাড়ীতে ঢুকেছেন, অমনি সঞ্জয় এসে উপস্থিত। “দাদা, জরুরী দরকার। একটু কথা বলতেই হবে।”

“ভিতরে এসো” বললেন বিধানবাবু। জুতোটা শুধু খুলেছেন, ট্যুরের ব্যাগটা তখনো বাইরের ঘরেই রয়েছে। তা হোক, সঞ্জয় তো ওনার ঘরের ছেলে। সোসাইটির সেক্রেটারি বলে কথা। যে সোসাইটির প্রেসিডেন্ট আবার বিধানবাবু স্বয়ং।

দিল্লির একটি মাঝারি সাইজের হাউসিং সোসাইটি এটি। দশটা বাড়ী, প্রত্যেকটিই চার তলা, দুটি করে ফ্ল্যাট। মাঝখানে একটা পার্ক, বেশ বড়ো সাইজের। এছাড়া আছে সোসাইটি অফিস, মেন্টেনেন্স অফিস, সামনে বড়ো গেট – সঙ্গে গার্ড রুম। পেছন দিকে একটা ছোট গেট আছে পদচারীদের জন্যে – আর তার লাগোয়া ছোট গুমটি ঘর – গার্ডের জন্যে। বেশ ছিমছাম সুন্দর সোসাইটি।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB67/LEKHA/gAtanu67_bhorer.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৬৭, জুন ২০১৭