অণুগল্পঃ মাইনর ক্রাইসিস

“আহা – এতো চঞ্চল হলে চলবে নাকি? তুমি একটা দায়িত্বপূর্ণ পজিশনে আছো…,” ছেলেটাকে বললেন তিনি। যে ছেলেটির সঙ্গে স্কাইপ কল চলছে, তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে সে রীতিমত অস্বস্তিতে রয়েছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ছেলে বলাটা অবশ্য ঠিক নয়, লোক। অনেকদিন ধরেই সিনিয়ার পজিশনে আছে।

“কিন্তু স্যার – এই যে এতোগুলো মেজর ক্রাইসিস…”

“আঃ” বলে উঠলেন উনি। “ক্রাইসিস হচ্ছে জীবনের তথা সভ্যতার অঙ্গ, মাই ফ্রেন্ড। এই ক্রাইসিসগুলোকে বাড়তে দিতেই হবে। এর মধ্যে থেকেই উঠে আসবে এই সমস্যার সমাধান। তুমি তো জানো এসব, তাই না?”

……

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB79/LEKHA/gAtanu79_minor.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৯, জুন , ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ বিয়ের খাওয়া

“আচ্ছা – সমীরবাবুদের বলবে তো?”

“ওঁদের ছেলে সবে সেরে উঠেছে। এখন বাদ দেওয়া যাক।”

“আর স্বাতীদের?”

“পাগল হয়েছো? যাদবপুর!! দু-সপ্তাহ ধরে কন্টেনমেন্ট এরিয়া। আসতেই পারবে না।”

“স্নিগ্ধাকে ডাকতেই হবে কিন্তু। আমার এতদিনের বন্ধুকে আমার মেয়ের বিয়েতে ডাকবো না?”

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB79/LEKHA/gAtanu79_biyer.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৯, জুন , ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ লড়াই

কলিং বেলটা বাজতেই মৃদু হাসি হেসে দরজাটা খুলে দিলেন মিঃ সেনগুপ্ত। সঙ্গে মানানসই “আসুন আসুন” ইত্যাদি।

আজ প্রায় আট মাস বাদে চৌধুরীবাবু ওঁদের বাড়িতে এসেছেন।

একসময় তো রোজই ওঁরা একে অপরের বাড়িতে যেতেন। পাশাপাশি অফিস-কোয়ার্টার – দুই পরিবারে যাতায়াত ছিল বহতা জলের মতো। পরে নিজের নিজের বাড়িতে উঠে গেলেও দেখাসাক্ষাৎটা নিয়মিতই ছিল। তবে সময় আর বয়েসের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে গিয়েছে।

তবে এতটা ব্যবধান হয় নি আগে।

…..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB79/LEKHA/gAtanu79_lorai.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৯, জুন , ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ পুঁইশাকের ডাব্বা

এই ঘরটায় ফজিলুল আগে আসে নি। নাম শুনেছে অবশ্য – “স্টেরিলাইজড লেবার ডিসকাশন রুম”। বেশ গালভরা নাম। বছরখানেক হলো তৈরি হয়েছে ঘরটা – ওই ফ্যাক্টরিটা যখন আবার নতুন করে শুরু হলো, তখন। ঘরটায় গোটা চারেক চেয়ার আছে , চেয়ারের সঙ্গে লাগোয়া সরু একটা করে টেবিল। চেয়ারগুলো সবকটাই কাঁচের দেয়ালটার দিকে মুখ করা।

ফজিলুল একেবারে সামনের চেয়ারটায় বসে কাঁচের দেয়ালটার দিকে তাকিয়ে আছে।

কাঁচের দেয়ালের ওপাশে যিনি আছেন, তাঁকে আবছা দেখা যাচ্ছে – কারণ কাঁচটার রংটা হালকা ধূসর। তবে তিনি পরিচিত ব্যক্তি। তাঁর নাম আভিন্দর সিং। এই ফ্যাক্টরিটার ম্যানেজার। একেবারে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।

কাঁচের ঘরের স্পিকারটায় তাঁর গলা গমগম করে উঠলো

“আমি আখরিবার পুছছি তুমাকে – ওই খানার ডিব্বাটা ওখানে কেনো রেখেছিলে?”

“স্যার – আমি তো বললাম – ওটা দীপকের জন্যে। বাড়ি থেকে এনেছিলাম, স্যার।“

“দীপক তো অন্য শিফটে। তুমার সঙ্গে তো উর দেখা হবার কোথা নয়।“

“স্যার, আগে তো আমার শিফটেই ছিল – আমার পাশের মেশিনে। তাছাড়া স্যার, এদ্দিন আমার বাড়ির পাশেই থাকতো। ওই করোনার সময় দাঙ্গা হলো বলে তো ও চলে গেল অন্য পাড়ায়। কিন্তু আমাদের দোস্তি তো খতম হয় নি।“

“এতো দোস্তি হিন্দু আর মুসলমানে, যে অলগ অলগ শিফট – ফির ভি তুমি ওর জন্য খানা নিয়ে আসো। এতো প্যার? নাকি অন্য কোন মতলব?”

“অন্য কী মতলব থাকবে স্যার।“

“এই ধোরো পাশের ওয়ার্কসএর রাধেশ্যামের থেকে টাকা খেয়ে তুমি করোনা বিমারি-ওয়ালা খানা এনে হামাদের ফ্যাক্টরিতে রেখে দিলে। ব্যাস – বিমারি ফ্যল গেলো, আমাদের ফ্যাক্টরিতে ফির সে লকডাউন হোয়ে গেল। ওদের ফায়দা হোয়ে গেলো, তুমার ভি ফায়দা – কিউ? ”

“কী বলছেন স্যার! আমি…আমি”

আভিন্দর সিং কিছু বলবার আগে ফ্যাক্টরি হেলথ এন্ড সেফটির হেড মিঃ মজুমদার বলে উঠলেন

“খাবার থেকে করোনা স্প্রেড করার কিন্তু এভিডেন্স নেই স্যার। গাভমেন্ট থেকেও এরকম ডায়রেক্টিভ নেই।“

স্পিকারটা মিউট করে দিয়ে আভিন্দর সিং মজুমদারের দিকে ঘুরে তাকালেন। তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন “বাঙ্গালীবাবু – আপনি বহুত সিধা-সাধা আদমি আছেন। করোনা খানাতে থাকবে কেনো? থাকবে ওই ডাব্বার গায়ে। ওই ডাব্বা ফ্যাক্টরির ফ্রিজে যাবে – তার থেকে আরও লোকেদের ডাব্বায় স্প্রেড করবে। এটা ওই ভজনলালের কোম্পানির চাল হতে পারে। ওই রাধেশ্যাম লোকটাকে আমি খুউব চিনি – এক নম্বরের হারামি আছে।“

“তবুও স্যার – আমার মনে হয় না ফজিলুল এরকম করবে। ওকেও তো আমরা চিনি।”

*****

এনকোয়ারি কমিশনের রিপোর্টটা আসার পর অনেক আলোচনা করে ঠিক করা হলো যে এবারের মতো ফজিলুলকে কড়া ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর ওয়ার্কারদের মধ্যে ডিস্ট্যান্সিংটা আরও বাড়াতে হবে। দুই শিফটের মধ্যে যে একঘণ্টার গ্যাপ আছে, সেটা বাড়িয়ে দেড়ঘণ্টা করে দেওয়া হবে, যাতে কোনভাবেই দুই শিফটের ওয়ার্কারদের দেখাসাক্ষাৎ না হয়। আর প্রতি শিফটের ওয়ার্কারদের মধ্যে দেড় মিটার গ্যাপ মেনটেন হচ্ছে কিনা, সেটা মনিটর করা হবে সার্ভেল্যান্স ড্রোন দিয়ে। ক্যান্টিনেও সার্ভেল্যান্স ড্রোন থাকবে, যাতে ওয়ার্কাররা একে অপরের সঙ্গে আচার বা তরকারি দেওয়া নেওয়া না করে। আভিন্দর সিং এই ব্যাপারটায় বিশেষ করে খুব জোর দিলেন। এদের এই একসঙ্গে, একে অপরকে জড়িয়ে বা বেঁধে রাখার বদঅভ্যাসটি সমূলে উৎপাটিত করতে হবে।

***

সব শুনে ফতেমা নিজের গালেতে আঙুল ঠেকিয়ে বললো “তোমাদের কোম্পানির পুরো মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমাদের বাড়িতে চিংড়ি-মাছ দিয়ে পুঁইশাক রান্না হবে আর আমি সেটা আমার রাখিবন্ধের ভাইকে পাঠাতে পারবো না – এমন অজীব কথা বাপের জম্মে শুনি নি!”

প্রথম প্রকাশ ঃ ব্ল্যাকবোর্ড রুদ্র সংখ্যা – ২০২০

অণুগল্প: ফাউল প্লে

“বাবা, তুমি অকারণে এত উত্তেজিত হচ্ছো! এখনকার ফুটবল – বলতে গেলে সব খেলাই যথেষ্ট টাফ হয়ে গেছে। ফুটবল, ক্রিকেট সবই। এমনকি কোচিং ক্লাসেও সেরকমই শেখায়।“ বলল সুব্রত।

বিমলবাবু চুপ করে নিজের খাটে বসে রইলেন। আজ, জীবনে প্রথম, নাতিটার গায়ে হাত তুলেছেন। তাও আবার সবার সামনে। কাজটা ঠিক হয় নি।  

নাতি-অন্ত প্রাণ বিমলবাবুর। আর নাতি রোহিতও  ওঁর খুব ন্যাওটা – ওঁর সঙ্গেই ফুটবল কোচিং ক্লাসে যায়। যদিও ক্লাস এইটে পড়ে – একা যেতেই পারে, তবুও বিমলবাবু সঙ্গে যান। একটু হাঁটাও হয়, তাছাড়া ফুটবল খেলা দেখা হয় বেশ।

…..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB78/LEKHA/gAtanu78_foulplay.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৮, এপ্রিল , ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ পথ ও পথের প্রান্তে

লাইব্রেরীতে বসে ছিলেন মোহনবাবু, একাই। যাবার আগে শেষবারের মতো ওঁর প্রিয় বাংলা অডিও-বইগুলো শুনছিলেন। এগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না তো, মনটা তাই খারাপ।

ডিজিটাল ফর্মে হলেও এত ডাটা নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। একে তো প্রচুর ডাটা-স্টোরেজ-ডিভাইস লাগবে, তাছাড়া এইসব পুরনো বাংলা বই প্রায় কেউই শোনে না আজকাল। এইসব বইয়ে যে পরিবেশের কথা আছে – সেই সমাজব্যবস্থা, সেই প্রকৃতি, সেই সময়ের মানুষের অনুভূতি, ভালো বা মন্দ লাগা – সে সবই থেকে আজকের দুনিয়া একেবারেই আলাদা। তাই আজকের মানুষ ওই সময়ের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে না; এই অডিও-বইগুলোকে তাই আর তেমন উপভোগ করে না। আর এখন যেখানে যাচ্ছেন, সেখানের পরিবেশ বা প্রকৃতি তো আরোই আলাদা। কাজেই অমূল্য হয়েও এই সব বইই আজকের প্রজন্মের কাছে মূল্যহীন। তাই অনেক তর্কবিতর্কের পর এগুলো নিয়ে যাওয়া হবে না, এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।  

…..

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

https://www.parabaas.com/PB78/LEKHA/gAtanu78_potherprante.shtml

প্রথম প্রকাশঃ পরবাস-৭৮, এপ্রিল, ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ পেন্সিল হিল

“স্যার, এটা কিন্তু একটু রিস্কি ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে। ওঁকে এখানে আনার কি দরকার? ওই আগ্রা-টাগ্রাই তো বেশ ছিল – ওখানেই তো সবাই যায়। “ বললেন দিলিপবাবু।

“ওপরমহলের নির্দেশ। তারা তো আমাদের পরামর্শ চায় নি, এবং দিলেও নেবে না। কাজেই…”

“কিন্তু স্যার – ওই আশ্রমের সামনের জায়গাটা কাঁচা মাটির। সেখান দিয়ে ওই মেমসাহেবকে নিয়ে যাওয়াটা… যদি কিছু গোলমাল হয়?”

বড়বাবু হাতের ফাইল থেকে মুখ তুলে তাকালেন। তারপর একেবারে মধুক্ষরা কণ্ঠে বললেন “দিলিপবাবু, আমেদাবাদের খাবার খুব ভালো, তাই না?”

“হ্যাঁ স্যার, সে তো বটেই। কিন্তু হঠাৎ…?”

“অনেক ছোট ছোট জিনিসও কি সুন্দর, তাই না? ওই ধরুন রাস্তার ধারে রামভাইয়ের চা আর মস্কাপাও – বিকেলবেলায় খেতে কি ভালই না লাগে, বলুন।“ বড়বাবু আজ খুব মুডে আছেন।

“হ্যাঁ স্যার।“ গদগদকণ্ঠে বললেন দিলিপবাবু।

“তা, এসব ছেড়ে, হঠাৎ যদি আঞ্জারে মরুভূমির মধ্যে আপনার ট্রান্সফার হয়ে যায়, কেমন লাগবে দিলিপবাবু?” বড়বাবুর গলাটা এবার ইস্পাতকঠিন শোনালো। “যদি সেটা না চান, তাহলে ব্যবস্থা করুন ঠিক করে। ওই কাঁচা মাটি ইত্যাদি ছেঁদো অজুহাত দেবেন না প্লিজ।“

দিলিপবাবু ঘর থেকে মাথা নিচু করে বেরিয়ে এলেন।

***

দুদিন পরের কথা।

এই দুদিনে আশ্রমের সামনের কাঁচা জমিতে পেটাই করে তাকে যথাসাধ্য পোক্ত করে তোলা হয়েছে। দিলিপবাবু আশ্রমের সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন, দুরুদুরু বক্ষে। দাঁড়িয়ে আছেন বড়বাবু, মন্ত্রীমশাইরা কজন, তাছাড়া অজস্র সিকিউরিটির লোক। পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শক্তিমান রাষ্ট্রনায়কের স্ত্রী আসছেন যে ! স্টেট গেস্ট। সঙ্গে থাকবেন বিদেশমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রনায়ক স্বয়ং আসতে পারেন নি – দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।

অজস্র গাড়ির কনভয়ের সঙ্গে লম্বা লিমুজিনটা এসে দাঁড়ালো। তার থেকে নামলেন স্টেটগেস্ট সেই ডাকসাইটে সুন্দরী। লাল টকটকে পোশাকটি তাঁকে মানিয়েছে খুব। দিলিপবাবু দেখলেন লাল স্কার্টের তলা দিয়ে বেরিয়ে আছে মাখন রঙের সুডৌল পা দুটি, আর তাতে শোভা পাচ্ছে স্বর্ণখচিত সুউচ্চ পেন্সিল-হিল।

মনে মনে “দুর্গা” বলে দিলিপবাবু ম্যাডামের সঙ্গে সঙ্গে চললেন।

দেখা গেল ম্যাডাম বিশেষ কিছু পড়াশোনা করে আসেন নি। দিলিপবাবুকে জিগ্যেস করলেন “হি লিভড হিয়ার, ইজ ইট?”

“হ্যাঁ ম্যাডাম। এইখানেই থেকেছেন দীর্ঘদিন। এইখান থেকেই শুরু করেছিলেন সেই বিখ্যাত ডান্ডি মার্চ। ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ।“

“ডান্ডি মার্চ?“

“ডান্ডি মার্চ। সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স। ব্রিটিশের লবণ ট্যাক্সের বিরোধিতা করে এই সবরমতি আশ্রম থেকে পায়ে হেঁটে ৩৮৫ কিলোমিটার দূরে সুরাটের কাছে ডান্ডি নামক একটি ছোট্ট জায়গায় গেলেন। তারপর ব্রিটিশ সরকারের রক্তচক্ষু অবজ্ঞা করে নুন তৈরি করলেন। অস্ত্রশস্ত্র কিছু ছিলো না ম্যাডাম – হাতে একটা লাঠি, পরনে খাটো ধুতি। আর খালি পা।“

“ইনক্রেডিবল !!“ আর কিছু বলবার আগেই কেলেঙ্কারিটি ঘটলো। সম্রাজ্ঞীর পদযুগলের শোভাবৃদ্ধিকারি ল্যুবুট্যন কোম্পানির স্বর্ণখচিত পেন্সিল-হিলের এক পাটি আচমকা ওই “নেকেড ফকির”এর আশ্রমের সামনের কাঁচামাটিতে সমূলে গেঁথে গেল।

“গেল গেল” করে দৌড়ে এলেন বাকি মন্ত্রীরা, আমলারা, বড়বাবু, মেজবাবু, সেজবাবু।

দিলিপবাবু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।

আঞ্জারে ট্রান্সফারটা আর বোধহয় আটকানো গেল না।

***

উত্তরকথনঃ এটি সত্য ঘটনা নয়, তবে প্রায় সত্য। এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন রাষ্ট্রনায়ক ও তাঁর স্ত্রীর ভারতভ্রমণের সফরসূচিতে একটি জায়গা ছিল, যেটির সামনের অঞ্চলটি সিমেন্ট বাঁধানো নয়। হাইহিল পরে সেখানে যেতে ম্যাডামের কষ্ট হবে, তাই রাতারাতি সেটা সিমেন্টে বাঁধিয়ে ফেলা হোক – এমন একটা প্রস্তাব উঠেছিল। পরে সেটা বাস্তবায়িত হয় নি।

কেন বাস্তবায়িত হয় নি তার কারণ, বলা বাহুল্য, সরকারি তরফ থেকে জানানো হয় নি। তবে ভাবতে ইচ্ছে করে যে খাটো ধুতি পড়ে খালি পায়ে হেঁটে যেতেন যে মানুষটি, যিনি সম্ভবত ভারতবর্ষের প্রথম প্রকৃত জননেতা, তাঁর আশ্রমে যাবার রাস্তাটিকে মার্কিন রাষ্ট্রনায়কের স্ত্রীর হাইহিলের জন্যে সিমেন্ট করে দেবার অর্ডারটা দিতে সরকারে কারুর হয়তো, একটিবারের জন্যে হলেও, লজ্জা করেছিল।

প্রথম প্রকাশঃ ফেসবুক – ১৪ জুন, ২০২০

চৈত্র পবনে

জানলাটা নিয়ে লড়ে যাচ্ছিল রোহিত। একেবারে টাইট হয়ে বসেছে – অনেকদিন খোলা হয় নি তো। প্রথমে নাট-বোল্টগুলো খুলে তারপর কব্জায় ড্রপারে করে তেল দিয়েছে তিনবার। তাও সে খোলবার নাম করছে না।

অবশ্য দোষ নেই। বারো বছর ধরে না খোলা হলে এমনটা তো হবেই। 

আরেকবার হাতল মুচড়ে সর্বশক্তি দিয়ে চাপ দিল রোহিত। সঙ্গে কাঁধ ঠেকিয়ে বাড়তি প্রেশার। দাঁতে দাঁত লাগিয়ে। প্রথমে ক্যাঁচ – তারপর হাত আর কাঁধের ধাক্কায় হুস করে খুলে গেল জানলাটা। হুহু করে ঘরে ঢুকে এলো দমকা হাওয়া।

বাকিটা পড়তে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। মোবাইলে পড়লে “Make page mobile friendly” গোছের কোন option এলে সেটাও ক্লিক করে নেবেন।

http://www.bombayduckmag.com/bd/Article/610/%E0%A6%85%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%81_%E0%A6%A6%E0%A7%87__%E0%A6%9A%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87,_%E0%A6%AE%E0%A6%AE_%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87.html

প্রথম প্রকাশঃ বম্বেDuck নববর্ষ সংখ্যা ২০২০

পছন্দ হলে একটু আমার ব্লগে কমেন্ট করে দেবেন প্লিজ ?

অণুগল্পঃ আমার মুক্তি

কান খাড়া করে সব কথা শুনছেন তিনি। পাশের ঘরে নাতনি আর বউমার তর্কের আওয়াজ উঁচুতে উঠছে ক্রমশ। 

“সারাক্ষণ এভাবে থাকা যায় নাকি? পার্কে গেলে কী হবে?”

“কী হবে তুমি বেশ জানো – ন্যাকা সেজো না। পার্কে গিয়ে তোমরা বন্ধুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরো – হাগ করো – তোমাদের ওই কী যেন – হ্যাঁ হ্যাঁ হাই-ফাইভ – ওগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্যোশাল ডিস্ট্যান্সিং তোমরা কেউ মেনটেন করো না।“

“তাহলে আমরা শুধু স্কাইপ আর জুম আর টিমে কথা বলবো নাকি সারা জীবন? এখন তো আর লকডাউন নেই। তাহলে…”

“তোমাদের যবে আক্কেল হবে, তারপর আবার বেরোবে। আমি তো ছাড় দিয়েইছিলাম। তোমার বাবা তোমাদের পার্কে দেখে এসে আমাকে বলল তোমরা সে ছাড়ের কী ধরণের অপব্যবহার করছো… ।“

দড়াম করে দরজাটা খুলে বেরিয়ে এলো তিয়াস। তারপর দুমদুম করে চলে গেলো বারান্দায়। সশব্দে বারান্দার দরজাটা বন্ধ হলো।

ওঁর খুব কষ্ট হলো মেয়েটার জন্যে। আহা – কতই বা বয়েস – এই তো পনেরোয় পড়লো। এই বয়েসে তো বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করবেই…

কষ্ট হলেও অবশ্য ওঁর বিশেষ কিছু করার নেই। সংসারে ওঁর কথার বিশেষ ওজন নেই – অনেককাল হলো। না –বউমা খারাপ ব্যবহার মোটেই করে না, বরং যত্নই করে। তবে কিনা ওঁর কথা বা মতামতকে বিশেষ পাত্তা দেয় না। এক্ষেত্রে তো আরোই দেবে না – কারণ বউমা যেটা বলেছে, সেটা যুক্তিযুক্ত।

সাতপাঁচ ভেবে শেষে আস্তে আস্তে বারান্দার দরজাটা খুলে বাইরে এলেন। ভেবেছিলেন তিয়াস বোধহয় খুব রেগে থাকবে – দেখলেন সে কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনছে। তবে মুখ দেখে মনে হচ্ছে না সেটা সে খুব মন দিয়ে শুনছে। একটা অস্থির ভাব।

উনি পাশে এসে দাঁড়ালেন। তারপর খুব নিচু স্বরে জিগ্যেস করলেন “গান শিখবি?”

“গান?” অবাক হলো তিয়াস। “কী গান?”

“ওই আর কী – আমি যেসব গান, মানে আমার…”

“মা শিখিয়েছিল কয়েকটা। তবে আমার তেমন ভালো লাগে না। ঠিকমতো বুঝতে পারি না।“

 “আমি বুঝিয়ে দেবো।“ বললেন উনি। “দাঁড়া – আগে গীতবিতানটা নিয়ে আসি।“

“গীতবিতান !!” বলে হাসলো তিয়াস। “এখন সব নেটে পাওয়া যায়। এই নাও – এই সাইটে খুঁজে দেখো।“

খুঁজে পেলেন উনি। অবশ্য গীতবিতানটা আনতে যা সময় লাগতো, তার চেয়ে একটু বেশিই সময় লেগে গেল – তা হোক! তারপর সেটাকে আস্তে আস্তে পড়তে লাগলেন।

“এই যে মুক্তির কথা বলেছেন – সেটা আমাদের অন্ধকার থেকে মুক্তি। মানে আমাদের মনের অন্ধকার… তাই এ মুক্তি আলোয় আলোয়। আজকের পৃথিবীতে, যখন এক অসুখের আতঙ্কে আমরা উৎকণ্ঠ হয়ে আছি – আপনজনকে হারাবার ভয় পাচ্ছি প্রতিমুহূর্তে, তখন এই প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি নিশ্বাসে আসছে আমাদের মুক্তি।“

তিয়াস ভুরু কুঁচকে শুনছে। সবটা ঠিক বুঝতে পারছে না। কিন্তু বলতে বলতে ওঁর মুখে যে জ্যোতির্বলয় ফুটে উঠছে সেটা টের পাচ্ছে। আর না বুঝেও কেমন যেন ভালো লাগছে তার। বিশেষত বোঝাতে বোঝাতে উনি একটু করে গেয়ে উঠছে আর তার গা শিরশির করে উঠছে তখন।

পেছন থেকে সমীরণের গলা পাওয়া গেল। “দেহ মনের সুদূর পারে, হারিয়ে ফেলি আপনারে…”। বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে সে – গলা ছেড়ে গাইছে। তিয়াসের চোখ গোল গোল হয়ে গেল।

“বাবা – তুমি গান গাইতে নাকি?”

“এটা আমাদের স্কুলের প্রেয়ারে গাওয়া হতো রে। এটা জানবো না? “ বলল সমীরণ।  

“থামলি কেন – গা” বললেন উনি। সমীরণ আবার গাইতে শুরু করলো। তিয়াসও।  

এসব গানের আওয়াজে মন্দিরা বারান্দায় এসে পড়েছেন। তাকে দেখেই তিয়াস বলল “মাম্মা – বাবা গান গাইছে – আর আমিও। এই গানটা জানো তুমি?”

“এটা সবাই জানে রে। “

“তাহলে আমাদের সঙ্গে গাও। ওয়েট আ সেকেন্ড – দিয়াকে ডেকে নিই স্কাইপে? ও তো বেঙ্গলি – ওরও ভালো লাগবে। হয়তো ওর মা-বাবাও জয়েন করবে। “

স্কাইপ চালু হলো। সোনাঝরা বিকেলে প্রবাসী দুটি পরিবার, যার কনিষ্ঠ সদস্যারা বাংলা ভালো করে জানে না, তারা দুটি আলাদা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই গানটা গেয়ে উঠলো।

আঘাতে বেদনায় বিষণ্ণ পৃথিবীর ওপর ছেয়ে আছে কালশিটে রঙের আকাশ। কিন্তু তার একপ্রান্ত আলোকিত হয়ে উঠছে রক্তিম সূর্যাস্তে। সেই সোনালি আলোয় দেখা যাচ্ছে ওঁর সাদা দাড়ি আর আলখাল্লা। উনি গাইছেন। প্রায়-অন্ধকার আকাশে মুঠো মুঠো মুক্তির আশা ছড়িয়ে পড়ছে।     

***

অণুগল্পঃ ডেটিং

রেস্তোরার আলোটা ত্যারছা হয়ে এসে পড়েছে সামনের রাস্তায়। সেই আলোয় দাঁড়িয়ে আছে রোহন। একটু অস্থির, ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক দেখছে, চুল ঠিক করছে থেকে থেকে। তাছাড়া খেয়াল রাখছে ওর নিজের মুখে আলোটা ঠিকমতো পড়ছে কিনা।

আসলে এটা ওর প্রথম টিন্ডার ডেটিং কিনা!

গত ছ’মাস কারোর সঙ্গে রোহনের সেভাবে কথাই হয় নি। লকডাউনের লৌহকপাট শিথিল হলেও মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগটা কেমন যেন ম্লান হয়ে গেছে। আগে যে অফিসের পার্টি হতো মাঝে মাঝে, কখনো বা বন্ধুদের পিৎজা পার্টি বা কোন মেয়ের সঙ্গে এমনি এককাপ কফি খাওয়া – সেসব যেন গতজন্মের কথা।

তাই প্রথমে আপত্তি থাকলেও শেষে এই টিন্ডার ডেটিং অ্যাপেতেই নাম লিখিয়েছে সে। এতে খরচা আছে কিছুটা, কিন্তু তবু তো কারোর সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হবে, কথা হবে। হয়তো অন্য কিছুও – বলা যায় না।

মেয়েটি এসে রোহনের ঠিক সামনে দাঁড়ালো। তারপর বলল “রগস-১৩ ?”

মাথা হেলিয়ে সায় দিলো রোহন। ওটা ওর টিন্ডার পাসওয়ার্ড। তারপর বললো “আসল নাম রোহন। তোমার?”

“তুলি। টিন্ডারে ‘দ্য বিচ’। আমাদের আজকের বুকিং নম্বর ৩২৭। কী, ঠিক আছে?”

হাসলো রোহন, যদিও মাস্কের আড়ালে সেটা বোঝা গেলো না। তারপর বলল “চলো, রেস্তোরায় যাই?”

“দাঁড়াও – তার আগে এটা দেখে নাও।“ তুলি ওর মোবাইলে একটা সার্টিফিকেট দেখালো। তুলির কোভিড টেস্টের সার্টিফিকেট। দুদিন আগে করা। রেজাল্ট নেগেটিভ।

“আর এই ট্র্যাকার অ্যাপ দেখাচ্ছে যে গত দুদিনে আমার সঙ্গে কোন কোভিড পেশেন্টের কন্ট্যাক্ট হয় নি। কাজেই – অল ওকে।“

যদিও এসব নিয়ম টিন্ডার-অ্যাপেই বলা ছিল, তবুও রোহন কেমন একটু থতমত খেয়ে গেল। আনাড়ি হাতে নিজের কোভিড সার্টিফিকেট আর ট্র্যাকার অ্যাপটা খুলে মোবাইলটা তুলির হাতে তুলে দিল। দুটোকেই মন দিয়ে দেখে ফেরত দিতে দিতে তুলি বলল “ক্লিন। চল, যাওয়া যাক।“

“রেস্তোরায়?”

“এত তাড়া কিসের? আগে এই সামনের পার্কে এক চক্কর হেঁটে নি?” বললো তুলি।

ফুটফুটে চাঁদের আলো পার্কে। আজ বোধহয় পূর্ণিমা। ওরা দুজন হেঁটে চলেছে পার্কে। কথা বলছে মৃদুস্বরে। তুলির চোখের তারায় চাঁদের প্রতিবিম্ব।

দুজনের দূরত্ব কমে আসছে ক্রমশ। হাতের গ্লাভস খুলে ফেলেছে দুজনেই।

পার্কের অন্যপ্রান্তে পৌঁছে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো তুলি। তারপর রোহনের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। দূরত্বটা কমে গেল আরেকটু।

রোহনের বুকটা ধড়াস ধড়াস করছে এবার। তুলির বাঁ হাত রোহনের গলা জড়িয়ে ধরেছে। কী অসম্ভব মাদকতা ওর পারফিউমের গন্ধে !

অব্যক্ত স্বরে রোহন কোনমতে বলল “মাস্কটা খুলবে না?”

খিলখিল করে হাসলো তুলি। তারপর ডানহাতের এক টানে খুলে ফেললো নিজের মাস্কটা। তারপর রোহনেরটাও।   

টকটকে লাল লিপস্টিক-মাখা তুলির ওই পুষ্পপুটতুল্য ঠোঁটের ফাঁকে ঝিলিক মারলো ঝকঝকে সাদা দাঁতের পাটি। পূর্ণিমার আকাশ-ধোয়া চাঁদের আলোয় রোহন দেখতে পেল তুলির শ্বদন্তটি একটু বেশিই দীর্ঘ। আর তাতে স্পষ্ট লাল দাগ।

রোহনের গলা জড়িয়ে থাকা তুলির নরম কোমল হাতটা হঠাৎ ইস্পাতকঠিন হয়ে উঠেছে। রোহনের গলার কাছে তখন একটা তীক্ষ্ণ অসহ্য যন্ত্রণা।

***